‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে ‘বিকশিত বাংলা’, রেড রোডে রাজ্যকে ভারতসেরা করার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

২০৪৭ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সর্বাগ্রে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ে তোলা প্রয়োজন। শনিবার রেড রোডে রাজ্যের প্রধান স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলমত ও রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে রাজ্যকে পুনরায় দেশের মধ্যে সেরা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সাধারণ মানুষ ও সমস্ত স্তরের জনসাধানের সহযোগিতা চেয়েছেন।
রেড রোডে ঐতিহাসিক ক্ষণ ও সাহসিকতার সম্মান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রেড রোডের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা দিবসের এই মূল অনুষ্ঠানে এই প্রথম অংশ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সকালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে তিনি অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। পতাকা উত্তোলনের পর দেশাত্মবোধক সুর, বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ট্যাবলো প্রদর্শনে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। এদিন সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জন আইপিএস অফিসারকে ‘মুখ্যমন্ত্রী পদক’-এ ভূষিত করেন তিনি।
অতীতের গৌরব পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের নতুন অঙ্গীকার নিজের বক্তব্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের অবদানকে স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক স্বপ্ন ও সম্মান ফিরিয়ে আনাই বর্তমান প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য। উত্তর থেকে দক্ষিণ— পাহাড়, তরাই-ডুয়ার্স, জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে উপকূল এলাকা পর্যন্ত সর্বত্র কর্মসংস্থান তৈরি, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কঠোর আইনশৃঙ্খলা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলিতে আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রাষ্ট্রবাদের মাটি ও জনকল্যাণমুখী ভাবনা নেতাজি, ঋষি অরবিন্দ ও ক্ষুদিরামের ভূমিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এদিনের কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত ১২টি ট্যাবলোর মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মারক ট্যাবলোর পাশাপাশি ‘কন্যারত্ন’, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’, ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’ ও ‘দুর্গাশক্তি বাহিনী’-র মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো ছিল মূল আকর্ষণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রেড রোডের মঞ্চ থেকে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক ভাবনায় এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিল।