উত্তরাখণ্ড টানেল দুর্ঘটনা: ‘নোংরা জল গড়ালেও কান দেয়নি সংস্থা’, প্রাণ হারিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শ্রমিকরা!

উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে নির্মাণাধীন টানেলে আচমকা জল ও ধস নেমে ৮ জন শ্রমিকের সলিলসমাধি ঘটেছে, আর এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন। তবে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় কি আদৌ এড়ানো সম্ভব ছিল? দুর্ঘটনার পর এমনই প্রশ্ন তুলে নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন কর্মরত শ্রমিকেরা।
অভিযোগ উঠেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টানেলটি প্লাবিত হওয়ার আগে থেকেই ছাদ থেকে নোংরা জল পড়ছিল। শ্রমিকদের দাবি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রকৌশলীদের বারংবার জানানো সত্ত্বেও কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শনিবার রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন মন্ত্রী মদন কৌশিক ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর কাছে ক্ষোভ উগরে দেন প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক অঙ্কুশ। তিনি জানান, টানেল ধরে রাখার জন্য ‘রিব’ বা সহায়ক খিলান বসানোর পর বুধবার থেকেই নোংরা জল গড়াচ্ছিল। কিন্তু সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে কর্তারা জানান, খিলানটি নাকি কেবল ‘সেট’ হচ্ছে। উপরন্তু, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ধ্বংসাবশেষ ঝরে পড়া শুরু হলেও কোনো পরিদর্শন করা হয়নি। ফলস্বরূপ, ওইদিন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ঘটে যায় চূড়ান্ত বিপর্যয়।
উল্লেখ্য, ‘টিএইচডিসি’-র বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অধীনে থাকা এই টানেলটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে ‘হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কো ম্পা নি’ (HCC)। ঘটনার পর থেকে তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে চামোলির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব কুমার জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নির্দেশে ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হচ্ছে।
দুর্ঘটনার সময় টানেলের ভেতরে আটকে পড়েছিলেন মোট ২২ জন শ্রমিক। যৌথ অভিযানে এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF) ও স্থানীয় প্রশাসন ১২ জনকে সশরীরে উদ্ধার করতে পারলেও বাকিদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ ২ জন শ্রমিকের খোঁজে এখনও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।