এক ছাদের তলায় সব চিকিৎসা! সরকারি হাসপাতালেই এবার মিলবে ‘আয়ুষ’ পরিষেবা, নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

সরকারি হাসপাতালগুলিতে অ্যালোপ্যাথির পাশাপাশি এবার এক ছাদের তলাতেই মিলবে বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা। রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল, প্রাথমিক ও কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে ‘আয়ুষ’ (আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানি, সিদ্ধা ও হোমিওপ্যাথি)-এর পৃথক আউটপেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট (ওপিডি) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রোগীরা চাইলে এখন থেকে সরকারি হাসপাতালেই অ্যালোপ্যাথির বদলে আয়ুষের চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারবেন। এই পরিষেবা সুচারুভাবে পরিচালিত করতে ইতিমধ্যেই ৪৮৪ জন মেডিক্যাল অফিসার ও ২৩০ জন ফার্মাসিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে আয়ুষের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক দফতর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই মডার্ন মেডিসিন ব্যবস্থার সাথে এই সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা মেনে এই পদক্ষেপকে চিকিৎসকদের একাংশ স্বাগত জানালেও, আয়ুষের এই সম্প্রসারণ নিয়ে চিকিৎসকমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকারের মতে, চিকিৎসা ক্ষেত্রের সকল পদ্ধতিকে একত্রিত করার এই বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ব্যবস্থা চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় নতুন দিশা দেখাবে। তবে প্রবীণ চিকিৎসক সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় সতর্ক করে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে এই সংযুক্তিকরণ যেন কোনোভাবেই ‘মিক্সোপ্যাথি’-তে রূপ না নেয়। অন্যদিকে, বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান কেন্দ্রের ডিরেক্টর অভিজিৎ ঘোষ এই পদক্ষেপকে দেশের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির পুনরুত্থান হিসেবে দেখছেন। যদিও ইতিপূর্বে আয়ুষকে এমবিবিএস পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার সুপারিশ কেন্দ্র ও ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (আইএমএ)-এর মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।