জাল নথিতে নেপাল পালানোর চেষ্টা! খড়িবাড়ি সীমান্তে ধৃত কাবুলের সুদের কারবারি আফগান যুবক

দার্জিলিঙের খড়িবাড়িতে ভারত-নেপাল সীমান্তে জাল নথিপত্রসহ এক আফগানিস্তানের নাগরিক এবং তাঁর এক ভারতীয় সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জলট্যাঙ্কি ইমিগ্রেশন দপ্তর এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে আবদুল্লাহ খান নামে ওই আফগান যুবক এবং শঙ্কর বণিক নামে এক ভারতীয়কে আটক করা হয়। ধৃত আবদুল্লাহর বাড়ি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এবং শঙ্কর বিধাননগরের দত্তাবাদের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল হয়ে তাঁদের তাইল্যান্ডে পালানোর পরিকল্পনা ছিল।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বেআইনিভাবে বসবাস করছিলেন আবদুল্লাহ। চার বছর ধরে তিনি হাওড়ার শিবপুরের ৮ নম্বর শীল বস্তি লেনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং এলাকায় চড়া সুদে টাকা ধার দেওয়ার কারবার চালাতেন। বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি ভারতীয় পরিচয়পত্র জাল করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তল্লাশির সময় তাঁর কাছ থেকে নকল আধার কার্ড, জাল ভারতীয় ভোটার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাল ভারতীয় পাসপোর্ট উদ্ধার হয়।
সোমবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে ধৃতদের হাজির করে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় খড়িবাড়ি থানার পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, নথি জালিয়াতি, ইমিগ্রেশন, ফোরেনার্স অ্যাক্ট এবং আধার আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
তদন্তে নেমে সোমবারই হাওড়ার শিবপুরে আবদুল্লাহর পুরানো ফ্ল্যাটে পৌঁছোয় পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন আবদুল্লাহ এবং তাঁর বন্ধু নিয়ামত খান পাশের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। শনিবারের পর থেকে আবদুল্লাহকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় জানান, এই জালিয়াতি চক্রের নেপথ্যে কোনো বড় প্রভাবশালী মাথার হাত রয়েছে কি না এবং আফগানিস্তানের ওই যুবকের সঙ্গে কোনো পাকিস্তানি নেটওয়ার্ক বা জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।