ইসরোর দায়িত্বে বড় রদবদল: রকেট-স্যাটেলাইট বানাবে বেসরকারি সংস্থা, বদলে যাচ্ছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা!

ইসরোর দায়িত্বে বড় রদবদল: রকেট-স্যাটেলাইট বানাবে বেসরকারি সংস্থা, বদলে যাচ্ছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা!

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’ (ISRO)-র কাজের ধারায় এক বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। এখন থেকে সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) এবং উৎক্ষেপণ যান (রকেট) তৈরির কাজ তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির হাতে। অন্যদিকে, ইসরো নিজের পুরো মনোযোগ দেবে জটিল মহাকাশ গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বড় বৈজ্ঞানিক অভিযানগুলির ওপর।

কেন্দ্রীয় মহাকাশ দফতরের অধীনে থাকা সংস্থা ‘ইন-স্পেস’ (IN-SPACe)-এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, ইসরোর রূপান্তর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। ইসরো তাদের তৈরি প্রযুক্তি বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে হস্তান্তর করবে। উদাহরণস্বরূপ, ‘স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল’ (SSLV)-এর প্রযুক্তি ও উৎপাদনের অধিকার নিলামের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘হ্যাল’ (HAL)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ‘পিএসএলভি’ (PSLV) এবং ইসরোর সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘এলভিএম-৩’ (LVM-3)-এর প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া একটি রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও বেসরকারি খাতের জন্য ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

এমনকি জাতীয় নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত সামরিক উপগ্রহ তৈরির ক্ষেত্রেও এবার বেসরকারি সংস্থা সুযোগ পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ৩১টি উপগ্রহ নির্মাণের অর্ডার পেয়েছে বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান।

নাসার মডেলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি: বিশেষজ্ঞদের একাংশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ (NASA)-ও একইভাবে বেসরকারি খাতের সহায়তায় কাজ করে। ভারত সরকার ২০২৩ সালের মধ্যে মহাকাশ খাতে বিনিয়োগ ৮০০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৪,৪০০ কোটি ডলারে নিয়ে যেতে চায়, যা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়।

চিন্তা বাড়াচ্ছে মেধা পাচার ও নিরাপত্তা: তবে এই নীতির মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন বিজ্ঞানী ইসরো ছেড়েছেন। এর মূল কারণ বেসরকারি সংস্থাগুলির লোভনীয় বেতন ও উন্নত ক্যারিয়ারের সুযোগ। আইআইটি-র মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও কম বেতনের কারণে ইসরোতে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এমনকি ইসরোর সর্বোচ্চ পদের মাসিক বেতন যেখানে আড়াই লাখ টাকা, সেখানে বেসরকারি সংস্থায় শিক্ষানবিশ বা শুরুর দিকেই বিপুল অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকে। ফলে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীর অভাবে ইসরোর ভবিষ্যৎ ও মিশন নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে।

তা ছাড়া, প্রতিরক্ষামূলক উপগ্রহ তৈরিতে বেসরকারি সংস্থা কতটা দায়িত্বশীল হবে তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক কিছু বিজ্ঞানী। কারণ বেসরকারি সংস্থার মূল লক্ষ্যই থাকে মুনাফা অর্জন।

ভবিষ্যতের পথ: বর্তমানে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, পিক্সেলের মতো বেশ কিছু ভারতীয় স্টার্টআপ মহাকাশ ক্ষেত্রে বিপ্লব আনছে। সম্প্রতি স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ‘বিক্রম ১’ নামক বেসরকারি রকেটের সফল উৎক্ষেপণও করেছে। তবে মহাকাশে নভোচারী পাঠানো (গগনযান মিশন) কিংবা ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরির মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পগুলির দায়িত্ব কিন্তু ইসরোর নিজের হাতেই থাকছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *