সর্বস্ব হারিয়েও থামেনি লোভ! বন্যায় মৃতদেহের গয়না ও সিন্দুক চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৯!

প্রলয়ঙ্করী বন্যায় নেপালজুড়ে যখন স্বজনহারা মানুষের কান্না আর লাশের সারি, ঠিক তখনই চরম অমানবিকতার এক অবিশ্বাস্য চিত্র সামনে এসেছে। বানের জলে ভেসে আসা একটি টাকার সিন্দুক ভেঙে লাখ লাখ টাকা লুট এবং ভেসে যাওয়া মহিলার মৃতদেহ থেকে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে নেপাল পুলিশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর রসুয়ার ভোটেকোশী অঞ্চল থেকে জলের তোড়ে ভেসে আসা একটি বিশালাকার ক্যাশ সেফ ধাডিং জেলার গালছি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আটকায়। ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় প্রশাসন খবর পায় যে, বানের জলে ভেসে আসা ওই সিন্দুকটি ভেঙে ভিতরের সমস্ত নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একদল দুষ্কৃতী। খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায় এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৯ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে। তাঁদের কাছ থেকে মোট ৯২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৫০৫ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের সিংহভাগই ধাডিংয়ের স্থানীয় বাসিন্দা, তবে কয়েকজন চিতওয়ান ও পর্ষা এলাকার লোকও রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ এখন এই বিপুল অর্থের আসল মালিকের সন্ধান চালাচ্ছে।
অন্য এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনায়, নারায়ণী নদীতে ভেসে যাওয়া এক মৃত মহিলার কান থেকে সোনার দুল খুলে নেওয়ার অপরাধে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও মারাত্মকভাবে ভাইরাল হয়, যেখানে স্পষ্ট দেখা যায় দুষ্কৃতীরা জলের তোড়ে ভেসে যাওয়া মহিলার দেহ থেকে গহনা খুলে নিচ্ছে। ওই ভিডিওর সূত্র ধরেই পুলিশ তাদের চিহ্নিত করে হাজতে পুরেছে। এদিকে, নেপালের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি চরম রূপ ধারণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৬ জনে এবং নিখোঁজের সংখ্যা লাফিয়ে পৌঁছেছে ২ হাজার ৪২৬ জনে। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে তৈরি এই হড়পা বানের তিন দিন পার হয়ে গেলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। স্বজনহারার আর্তনাদের মাঝে এই চুরির ঘটনা নেপালের প্রশাসনিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।