মণ্ডপে আমিষ নয়, দেবী মূর্তিতে বদল রুখতে প্যান্ডেলে কড়া বিধিনিষেধের হুঁশিয়ারি ভিএইচপি-র

শারদোৎসবের আবহেই বাংলার দুর্গাপূজায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপের দাবি তুলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। প্যান্ডেলের থিম, দেবীর সনাতন রূপ পরিবর্তন, মণ্ডপ চত্বরে আমিষ খাবার নিষিদ্ধকরণ থেকে শুরু করে উৎসবের ‘সর্বজনীন’ চরিত্র—একাধিক বিষয়ে সংগঠনটির সাম্প্রতিক অবস্থান ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।
ভিএইচপি-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান প্রচারক রক্তিম দাস এবং স্বামী নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্যান্ডেলের সজ্জায় সৃজনশীলতা মেনে নেওয়া গেলেও দেবী দুর্গার ঐতিহ্যবাহী দশভুজা রূপ ও শাস্ত্রীয় ভাবমূর্তি বদলে ফেলা বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি, মণ্ডপের পবিত্রতা বজায় রাখতে ভেতরে বা প্রাঙ্গণে আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেউ আমিষ খেতে চাইলে তা মণ্ডপ থেকে দূরে নির্দিষ্ট স্থানে করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে দুর্গাপূজার চরিত্র নিয়ে দেওয়া ভিএইচপি-র বক্তব্যে। তারা দুর্গাপূজাকে সকল ধর্মের মিলনক্ষেত্র বা ‘সর্বজনীন উৎসব’ না মেনে, মূলত একটি ‘খাঁটি ধর্মীয় আচার’ হিসেবে গণ্য করার সওয়াল করেছে। দীর্ঘদিনের সমাজ-সংস্কৃতির ধারক এই উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই নতুন অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সংগঠনটির হুঁশিয়ারি—পূজা কমিটিগুলি তাদের এই নির্দেশিকা না মানলে তারা স্থানীয় স্তরে জনমত গড়ে তুলে সেই পুজোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। থিম ও বাণিজ্যিক জনপ্রিয়তার ভিড়ে ভিএইচপি-র এই কড়া শর্ত বাংলার পুজো সংস্কৃতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।