ইমরানের কষ্টে অঝোরে কাঁদলেন মিয়াঁদাদ, ‘ছেড়ে দিলে কি কাউকে খেয়ে নেবে?’

পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে বন্দি। সতীর্থ ও বহুযুদ্ধের নায়ক বন্ধুর এই করুণ পরিণতি দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না জাভেদ মিয়াঁদাদ। প্রকাশ্যে একটি সাক্ষাৎকারে অঝোরে কেঁদে ফেললেন পাকিস্তান ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি ব্যাটার।
সম্প্রতি ‘ন্যারেটিভ’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মিয়াঁদাদ। ইমরানের সততার পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেন, “ইমরান অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ। দুর্নীতিগ্রস্তদের মতো ও একেবারেই নয়। ও তো কারও সন্তান। জেল থেকে ছেড়ে দিলে ও কি কাউকে খেয়ে ফেলবে, নাকি কারও ক্ষতি করবে? আমি সবসময় ভাবি, জেলের ভেতরে ও এখন কীভাবে দিন কাটাচ্ছে!”
২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কড়া নিরাপত্তায় তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলেও, অনুগামীদের অভিযোগ—ব্যক্তিগত চিকিৎসকের উপস্থিতিতে সঠিক চিকিৎসা তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না। কাউন্টি এবং জাতীয় দলে ইমরানের সঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরান অন্যায় করতে পারেন না। রাজনৈতিক বরফ গলাতে তিনি সব পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বানও জানান।
একসময় ইমরান ও মিয়াঁদাদের মধ্যে রেষারেষির একাধিক খবর সামনে এলেও, সেসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন মিয়াঁদাদ। তিনি জানান, দেশের স্বার্থে তাঁরা চিরকাল একসঙ্গেই লড়েছেন। ১৯৯২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ২৪ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর এই জুটিই ১৩৯ রানের ইনিংস গড়ে পাকিস্তানকে বিশ্বজয়ী করেছিল।
অন্যদিকে, সম্প্রতি লর্ডস টেস্টের সম্প্রচারের সময় স্কাই স্পোর্টসে ইমরানের দুই ছেলে—সুলেমান ও কাসিম দাবি করেন, জেলের ভেতরে দিনে ২৩ ঘণ্টা তাঁদের বাবাকে একাকী বন্দি রেখে ধীরে ধীরে মেরে ফেলার চক্রান্ত চলছে। এই সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আপত্তি জানালেও, ক্রিকেটবিশ্বের সমর্থন পাচ্ছেন ইমরান। সুনীল গাভাসকর, কপিল দেব, গ্রেগ চ্যাপেল এবং প্যাট কামিন্সের মতো তারকারা ইতিপূর্বেই ইমরানের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি তুলেছিলেন। এবার সেই দলে যোগ দিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সতীর্থ জাভেদ মিয়াঁদাদও।