‘৭০ কোটি নারীই দেশের আসল শক্তি’, মনুস্মৃতির সামাজিক খাঁচা গুঁড়িয়ে তরুণীদের স্বাধীনতার পাঠ রাহুলের

‘৭০ কোটি নারীই দেশের আসল শক্তি’, মনুস্মৃতির সামাজিক খাঁচা গুঁড়িয়ে তরুণীদের স্বাধীনতার পাঠ রাহুলের

একজন নারীর পরিচয় কি শুধু কারও মেয়ে, স্ত্রী, মা বা বোন হিসেবে? নাকি এসবের ঊর্ধ্বে তাঁর নিজস্ব স্বপ্ন ও স্বাধীনতা রয়েছে? পুণেতে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির বিশেষ পর্বে তরুণী ও পেশাজীবী মহিলাদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রশ্নই তুলে ধরলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

তাঁর সাফ বক্তব্য, সামাজিক প্রত্যাশা বা সম্পর্কের বাঁধন যেন নারীর জীবনের গতিপথ ঠিক না করে। একজন নারী সবার আগে নিজের, সেটাই তাঁর প্রথম পরিচয়; তার পর তিনি পরিবার বা সমাজের অন্য ভূমিকাগুলোতে আসেন। নিজের শিক্ষা, কর্মজীবন ও ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নারীরই থাকা উচিত।

মহিলাদের ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে রাহুল তীব্র আক্রমণ শানান মনুস্মৃতিকে। তাঁর অভিযোগ, এই গ্রন্থে নারীকে সর্বদা পুরুষের অধীনে রাখার যে মানসিকতা রয়েছে, তা নারীর অগ্রগতির পরিপন্থী। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতা এবং নিরাপত্তাহীনতার ভয় দেখিয়ে নারীদের নির্দিষ্ট ‘খাঁচায়’ আটকে রাখা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক বক্তৃতা দেওয়ার বদলে উপস্থিত তরুণীদের হেনস্থা, পারিবারিক বাধা ও কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন রাহুল। তাঁদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা—নিজের যোগ্যতা প্রমাণে কোনো পুরুষের দ্বারস্থ হতে হবে না, বরং সব সামাজিক বিধিনিষেধ ভেঙে নিজেকেই নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *