২৬ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য নির্ধারণ আজ: সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন শেষ, নজর শুনানিতে

২৬ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য নির্ধারণ আজ: সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন শেষ, নজর শুনানিতে

পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ২৬ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ নিয়ে আইনি জট অব্যাহত। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া ৩১ অগাস্টের সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে না পেরে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও ৮ মাস অতিরিক্ত সময় চেয়েছে রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। আজ, বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সচিন সচদেবার বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি হতে চলেছে।

কমিশন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্ট সময়সীমা বাড়ালে নতুন ডেডলাইন হতে পারে ২০২৭ সালের ৩১ মে। তবে এই সময় বৃদ্ধির আবেদনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিক্ষকদের ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন। কারণ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষকদের বেতন পাওয়ার মেয়াদ ছিল এই ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত। ফলে মেয়াদ আরও ৮ মাস বাড়লে এই সময়ে শিক্ষকরা বেতন পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

এসএসসি-র চেয়ারম্যান দুষ্যন্ত নারিয়ালা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ৩১ অগাস্টের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয় এবং যাঁরা সুপারিশপত্র পেয়েছেন তাঁদের নিয়োগ নিয়েও সংশয় রয়েছে। জাতিগত সংরক্ষণ নীতি সঠিকভাবে প্রয়োগের বিষয়েও আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছে কমিশন।

অন্যদিকে, এই বিলম্বের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়েছে, তাই সমস্ত আইনি জটিলতা দ্রুত মেটানো এবং যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগ সুনিশ্চিত করাই এখন প্রধান দাবি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল করার পর শীর্ষ আদালত প্রথমে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং পরে বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। আজকের শুনানিতে আদালত রাজ্য ও SSC-র আবেদনে সাড়া দেয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে হাজার হাজার শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীর ভাগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *