মুখ্যমন্ত্রীর দুয়ারে পৌঁছানোর আগেই শেষ! মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বাবা-মেয়ের

মুখ্যমন্ত্রীর দুয়ারে পৌঁছানোর আগেই শেষ! মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বাবা-মেয়ের

বেলদা: মাথার ওপর একটা পাকা ছাদের আর্জি জানাতে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের দুর্দশার কথা বলতে চেয়েছিলেন ৭৬ বছরের বৃদ্ধ নিরঞ্জন প্রধান। কিন্তু সেই সুযোগ আর মিলল না। রবিবার গভীর রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার জাহালদা এলাকায় প্রবল বৃষ্টিতে মাটির ঘর ভেঙে চাপা পড়ে মৃত্যু হলো নিরঞ্জনবাবু ও তাঁর ৪৯ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ে দুর্গা প্রধানের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে নিরঞ্জনবাবুর জরাজীর্ণ মাটির ঘরটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। সরকারি ঘর বা আর্থিক সাহায্যের আশায় রবিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের রাস্তার পাশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাটআউট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রশাসনের নজর কাড়তে পারলে হয়তো পরিবারের দুর্দশা ঘুচবে। কিন্তু রবিবার রাতেই নামে চরম বিপর্যয়। প্রবল বৃষ্টিতে আচমকাই ধসে পড়ে ঘরের মাটির দেওয়াল। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক বাবা ও মেয়েকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্য কয়েকজন সদস্য আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

তেলেভাজার দোকান চালিয়ে অত্যন্ত কষ্টে সংসার চালাতেন নিরঞ্জনবাবু। পরিবারে তাঁর স্ত্রী, বিধবা পুত্রবধূ এবং এক মানসিকভাবে অসুস্থ ছেলে রয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, পরিবারটির চরম অর্থকষ্টের কথা প্রশাসন আগে থেকেই জানত। ত্রাণ দেওয়া হলেও মেলেনি পাকা ঘর। শেষপর্যন্ত সরকারি আবাসন পাওয়ার আগেই ঝরে গেল দুটি প্রাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *