প্রতিটি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে এ বার ডিজিটাল নজরদারি, ডিসেম্বরের মধ্যেই বসছে QR Code
রাজ্যের পুরসভা এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও দ্রুতগতির করতে বড়সড় ডিজিটাল পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুর দপ্তর। শহরের প্রতিটি পুর এলাকার বাড়িগুলিতে এ বার থেকে বিশেষ QR Code সম্বলিত স্টিকার লাগানো হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পুরো ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে পুর কর্তৃপক্ষের।
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি বাড়ি থেকে ১০০% বর্জ্য সংগ্রহ করা, উৎসেই ভিজে ও শুকনো জঞ্জাল পৃথকীকরণ নিশ্চিত করা এবং বহুদিনের জমে থাকা বর্জ্য আধুনিক উপায়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা।
কী ভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা?
- রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং: প্রতিটি বাড়ির গেট বা সহজে দৃশ্যমান স্থানে QR Code বসানো হবে। পুরকর্মীরা জঞ্জাল সংগ্রহের সময় নিজেদের ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে সেটি স্ক্যান করে তথ্য আপডেট করবেন। ফলে কোন কর্মী কখন জঞ্জাল সংগ্রহ করছেন, তার রিয়েল-টাইম তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে পৌঁছে যাবে।
- নিয়ম না মানলে পদক্ষেপ: ভিজে বর্জ্য (খাবারের উচ্ছিষ্ট, শাকসবজির খোসা) এবং শুকনো বর্জ্য (প্লাস্টিক, খবরের কাগজ) আলাদা না করে দিলে বা নিয়মিত বর্জ্য না সোপর্দ করলে বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে পুরকর্মীরা লিখিত অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- পরিবেশ কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের সুযোগ: যদি পুরকর্মীরা সময়মতো বর্জ্য সংগ্রহ করতে না আসেন, তবে বাসিন্দারাও ওই QR Code স্ক্যান করে সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ সাধন ঘোষের মতে, জঞ্জালের সফল পুনর্ব্যবহারের জন্য উৎস থেকে জঞ্জাল পৃথক করা ও সঠিক সময়ে তা সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি শহরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে এবং পরিষেবা দ্রুততর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে।