নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বিপর্যয়: মৃতের সংখ্যা ১২২৫ ছাড়াল, নিখোঁজ ৪,২১৬ জন
চিন সীমান্তবর্তী হিমবাহে ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় থমকে গেছে নেপাল। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এই ঘটনার পর দেশটির দুর্যোগ পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গত ২৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে রাসুয়ার লেন্দে উপত্যকায় বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নামে। মুহূর্তের মধ্যে সেই কাদা, পাথর ও বরফশীতল জলের তোড় প্রচণ্ড গতিতে নিম্নাঞ্চলে নেমে আসে।
নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ১২০৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বেড়ে ১২২৫-এ পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে চিতওয়ানে (৩৪৮ জন)। এছাড়া নওয়ালপারাসি পূর্ব থেকে ২০২, নুয়াকোট থেকে ১৫৫ এবং রাসুয়া থেকে ১১৫ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ২১,৩১৪ জন সদস্য দিনরাত এক করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১,৯৯৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ৪,২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার মতো দেশের নাগরিকরাও রয়েছেন। অন্যদিকে, সীমান্ত ছাড়িয়ে তিব্বতেও এর প্রভাব পড়েছে; চিনা সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সেখান থেকে ২১ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ।
ভোটকোশী নদীর হড়পা বানের পর এক সপ্তাহ কেটে গেলেও বহু মানুষের সন্ধান মেলেনি। দুর্ঘটনাস্থলে স্বজনদের হাহাকার আর আর্তনাদ নিত্যদিনের ছবি। অলৌকিক কিছুর আশা ছেড়ে দিয়ে অনেকেই প্রিয়জনের কুশপুতুল বানিয়ে শেষকৃত্য সারছেন, যাতে স্বজনদের আত্মা শান্তি পায়। লেন্দে নদীর ধ্বংসস্তূপ ভোটকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে মিশে লোকালয়ে আছড়ে পড়ায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একাধিক গ্রাম, সেতু, রাস্তা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র।