ইরানে ট্রাম্পের ভয়াবহ হামলা: ১৮ জনের মৃত্যু, মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হানায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাতভর জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ-রেজা জাফারঘান্দি নিশ্চিত করেছেন যে, এই হামলায় চার বছরের এক শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ ইরানের হোরমোজগান প্রদেশের কুহেস্তাক শহরে। সেখানে একটি চলন্ত বিয়েবাড়িতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়লে হতাহতের এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ: এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আক্রমণ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরান জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নিজেদের সীমান্ত ও পরিকাঠামো রক্ষায় তারা কঠোরতম পদক্ষেপ নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আত্মরক্ষার যুক্তি: অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) হামলার সত্যতা স্বীকার করে একে ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আক্রমণ রোধ এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর হুমকি নস্যাৎ করতেই এই সেনাবহর পরিচালনা করা হয়েছে।
পাল্টা হামলা ও বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ: মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে চুপ থাকেনি ইরানও। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তারা একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দুই দেশের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেসামরিক প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সংঘাত থামিয়ে কূটনীতির পথে ফেরার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।