রাম মন্দির ট্রাস্টে বড় রদবদল: প্রথম সিইও প্রাক্তন এয়ার মার্শাল, ‘সব পদে নিজেদের লোক বসাচ্ছে বিজেপি’ সরব অখিলেশ

অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টের দান চুরি বিতর্ক এবং শীর্ষ আধিকারিকদের ইস্তফার জেরে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল আনা হলো। ‘রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এ তিনটি নতুন পদ তৈরির পাশাপাশি ট্রাস্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) পদে বসানো হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জীতেন্দ্র মিশ্রকে। যিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন, এখন থেকে মন্দিরের যাবতীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয় পরিচালনার দায়িত্ব সামলাবেন তিনিই। এছাড়া ট্রাস্টে নতুন তিন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন অযোধ্যার মদন মোহন পান্ডে, দিল্লির মহেশ ভাগচান্দকা এবং শিকোহাবাদের নির্মলা যাদব।
ট্রাস্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, নেতৃত্ব ও সততার কঠোর মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মোট ৬০০ নম্বরের মূল্যায়ন এবং ১৬ জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার শেষে তাঁদের বেছে নেওয়া হয়। সম্প্রতি অনুদান চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ৮ জন গ্রেফতার হওয়ার পর বিতর্কের মুখে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই ইস্তফা দেন। তবে পরবর্তীতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) চম্পত রাইকে এই মামলায় ক্লিনচিট দিয়েছে।
ট্রাস্টের এই রদবদল ও সিইও নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। সমাজবাদী পার্টি (SP) প্রধান অখিলেশ যাদব অভিযোগ তুলেছেন, নিরপেক্ষতার দাবি করলেও বিজেপি আদতে সব পদে নিজেদের লোকই বসাচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভগবানের দরবারে এমন চুরি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং বিশ্বাস নিয়ে তামাশা করার সামিল। অন্যদিকে, রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই মন্তব্য করেছেন যে, অনুদান চুরিকে আইনি বৈধতা দিতেই এই সিইও নিয়োগ করা হয়েছে; কোনো প্রশাসনিক আধিকারিক নয়, বরং ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাধু-সন্তদের মতামত নিয়েই ট্রাস্ট চালানো উচিত ছিল।