মোদির মুখে হঠাৎ কেন অ্যাভোকাডোর নাম? জেনে নিন এই সুপারফুডের অবিশ্বাস্য গুণাগুণ!

একসময় সাধারণ মানুষের অচেনা হলেও অ্যাভোকাডো এখন শহরের ক্যাফে থেকে পাড়ার খাবারের টেবিল—সর্বত্র জায়গা করে নিয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে ভারতে এই ফলটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও চাষের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যান্য ফলের মতো এতে প্রাকৃতির শর্করা বেশি থাকে না; বরং এটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বিশেষ করে ওলেইক অ্যাসিড এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ। ‘জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত একটি অ্যাভোকাডো খেলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।
তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করেছেন যে এটি বেশ উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত, তাই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ৭০-১০০ গ্রামই যথেষ্ট। যদি দাম বা সহজলভ্যতার কারণে প্রতিদিন অ্যাভোকাডো খাওয়া সম্ভব না হয়, তবে বাদাম, শাকসবজি ও স্থানীয় রঙিন ফল থেকেও একই ধরনের ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান পাওয়া সম্ভব। কাঁচা স্যালাড বা স্মুদিতে এটি সহজেই খাওয়া যায়, তবে অতিরিক্ত মিষ্টি মেশানো অনুচিত। শুধু স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, সিকিম, মিজোরাম, মহারাষ্ট্র সহ ভারতের একাধিক রাজ্যে আন্তঃফসল হিসেবে এটি চাষ করে কৃষকরাও এখন লাভবান হচ্ছেন। পুষ্টিগুণ আর আয়ের নতুন দিশা—এই দুই কারণেই ভারতীয়দের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে অ্যাভোকাডো।