‘নিস্তব্ধতা মানেই মৃত্যু নয়’, ৯ দিন পর নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে ২ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার

কাঠমান্ডু: ৯ দিনের টানা অদম্য লড়াই আর আশার জয় হলো নেপালে। ত্রিশূলি ৩এ (Trishuli 3A) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের হড়পা বানে বিধ্বস্ত সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার সকালে দুই শ্রমিককে অলৌকিকভাবে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভারতের উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে ৪১ জন শ্রমিককে জীবিত ফিরিয়ে আনা অস্ট্রেলীয় সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আর্নল্ড ডিক্সের মেধা ও দৃঢ়তার বলেই নেপালেও এই সাফল্য মিলল।
ঘটনার পর থার্মাল ড্রোন ওড়িয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের কোনো খোঁজ মেলেনি। তবুও উদ্ধারকারী দল ও সেনাকর্মীদের আস্থা হারাত দেননি ৬২ বছর বয়সী ডিক্স। তিনি স্পষ্ট জানান, “ভূগর্ভের নিস্তব্ধতা কিন্তু মৃত্যুর প্রমাণ নয়।” পেশায় ভূতাত্ত্বিক ও ইঞ্জিনিয়ার ডিক্সের যুক্তি ছিল, সুড়ঙ্গ একটি সুরক্ষিত প্রকৌশলী কাঠামো, যা বাইরের ধ্বংসলীলার মধ্যেও ভেতরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য বাতাস ধরে রাখতে পারে। তাছাড়া ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজে প্রায় ৩০ জন শ্রমিককে আশ্রয়ের জন্য সুড়ঙ্গের ভেতরের দিকে ছুটে যেতে দেখা গিয়েছিল।
উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। পাহাড়ধসের কারণে সুড়ঙ্গের মূল মুখটি নদীর নিচে চলে যায় এবং বড় বড় পাথর ও কাদায় আটকে যায়। পাথর সরাতে সেনাবাহিনী ডেকে বিস্ফোরক ব্যবহার করতে হয় এবং ভেতরের জল বের করার জন্য একটি কৃত্রিম ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। ডিক্স নিশ্চিত ছিলেন যে ভেতরে মানুষ জীবিত আছেন, কেবল তাঁদের কাছে পৌঁছানো সময়ের অপেক্ষা।
২০১০ সালের চিলির খনি দুর্ঘটনা (৬৯ দিন পর ৩৩ জন উদ্ধার), ২০১৮ সালের থাইল্যান্ডের গুহা ট্র্যাজেডি (৯ দিন পর ১২ কিশোর উদ্ধার) এবং ২০২৩ সালের ভারতের উত্তরকাশীর নজির টেনে ডিক্স প্রমাণ করেছেন যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জীবন বেঁচে থাকে। ‘ইন্টারন্যাশনাল টানেলিং অ্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড স্পেস অ্যাসোসিয়েশন’-এর এই প্রাক্তন সভাপতির পরামর্শ ও মানসিক শক্তির ওপর ভর করেই ৯ দিন পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন দুই শ্রমিক।