সোনার বাজারে সাময়িক পতন, রুপার দামে কি আসতে চলেছে বড় লাফ?

সোনার বাজারে সাময়িক পতন, রুপার দামে কি আসতে চলেছে বড় লাফ?

আন্তর্জাতিক বাজারে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ সুদের হার এবং অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির দরুন সম্প্রতি সোনা ও রুপার দামে সাময়িক পতন ঘটেছে। বিশ্ববাজারে কমেক্সে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪,৪২০.৮০ ডলার এবং রুপার দাম ৬৬.৮৬ ডলারে নেমেছে। তবে এই দরপতন সত্ত্বেও বিনিয়োগ সংস্থা মোনার্ক পিএমএস (Monarch PMS) মনে করে, দীর্ঘমেয়াদে সোনার চেয়ে রুপার দাম দ্রুত বাড়ার প্রবল সুযোগ রয়েছে।

রুপার বাজারে বড় উত্থানের মূল কারণসমূহ:

  • তীব্র ও ধারাবাহিক সরবরাহ সংকট: বিশ্ববাজারে টানা ষষ্ঠ বছরের মতো রুপার ঘাটতি বজায় রয়েছে। ২০২৬ সালে এই ঘাটতি প্রায় ৪৬.৩ মিলিয়ন আউন্সে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খনি থেকে নতুন করে রুপা উত্তোলনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বাজারে হঠাৎ করে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।
  • সৌর প্যানেলের ব্যবহার ও প্রকৃত প্রভাব: সোলার প্যানেল তৈরিতে প্রযুক্তিগত পরিমার্জনের কারণে প্রতিটি কোষে রুপার ব্যবহার কিছুটা কমলেও সামগ্রিক ঘাটতির চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
  • বাজারের কাগজ-ভিত্তিক গঠন (Paper Leverage): কমেক্সে (COMEX) জমা রাখা মোট রুপার মজুত (প্রায় ৯৬ মিলিয়ন আউন্স) সেখানে থাকা কাগজের দাবির তুলনায় মাত্র ১৭.৮%। এই পরিকাঠামোর কারণে যেমন দ্রুত পতন সম্ভব, তেমনই বিনিয়োগের প্রবাহ ফিরলে রুপার দাম অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • সোনার তুলনায় আকর্ষণীয় মূল্যায়ন: মোনার্ক পিএমএস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল্যায়নের বিচারে সোনা বর্তমানে তার নির্ধারিত গড়ের ওপরে রয়েছে, অন্যদিকে রুপা এখনও তার সম্ভাব্য মধ্যবিন্দুর (আউন্স প্রতি ৬৫ ডলার) নিচে লেনদেন করছে। ফলে বর্তমান সোনা-রুপার অনুপাতে (Gold-Silver Ratio) রুপার ঝুঁকি-ও-রিটার্ন সমীকরণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি সুবিধাজনক।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: রুপার দাম সোনার চেয়ে কিছুটা বেশি পরিবর্তনশীল হলেও, সাম্প্রতিক দরপতনের মাধ্যমে বাজার অনেকটাই হালকা হয়েছে। মৌলিক সরবরাহের ঘাটতি ও বিনিয়োগ চাহিদা বজায় থাকলে মূল্যবান ধাতুর মূল্যবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে রুপা সোনাকে টেক্কা দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *