উজ্জয়িনীতে ১৭০ বছরের পুরনো হনুমান মূর্তি ঘিরে অলৌকিক কান্ড! বুলডোজার এনেও ব্যর্থ প্রশাসন, ভক্তদের ঢল

বিশেষ প্রতিবেদন: ধর্মীয় শহর উজ্জয়িনীতে রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং আসন্ন সিংহস্থ মেলার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে এক নজিরবিহীন ও রহস্যজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় প্রশাসন। ১৭০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক ‘শ্রী খড়ে হনুমান’ মন্দির সরাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে পৌরসভা। অত্যাধুনিক বুলডোজার, শক্তিশালী ক্রেন এবং ভারী জেসিবি ব্যবহার করেও মূর্তিটিকে তার জায়গা থেকে একচুলও নড়ানো যায়নি।
ঠিক কী ঘটেছে? উজ্জয়িনীর ছত্রী চক থেকে কণ্ঠাল পর্যন্ত রাস্তা চওড়া করার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এই রাস্তার পথেই পড়ে ঐতিহাসিক শ্রী খড়ে হনুমান মন্দির।
- প্রথম বাধা (৩০ আগস্ট): স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিবাদ ও পথ অবরোধের কারণে মন্দির সরানোর কাজ থমকে যায়।
- দ্বিতীয় চেষ্টা (৪ সেপ্টেম্বর): বিশাল পুলিশ বাহিনী, পৌরসভা ও প্রশাসনের বিশেষ দল বুলডোজার নিয়ে এসে মন্দিরের চূড়া এবং চারপাশের দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
- রহস্যময় অনড়তা: মন্দিরের পরিকাঠামো ভাঙা গেলেও মূল মূর্তিটি স্থানান্তরিত করার সময় বাঁধে আসল বিপত্তি। ভারী একাধিক ক্রেন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে টানা সাত দিন ধরে চেষ্টা চালানো সত্ত্বেও মূর্তিটিকে তার স্থান থেকে সরানো সম্ভব হয়নি।
দেশজুড়ে চাঞ্চল্য, ভিড় জমাকচ্ছেন সাধু-সন্তরা প্রশাসনের এমন ব্যর্থতার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই উজ্জয়িনীতে পুণ্যার্থীদের ভিড় উপচে পড়ছে। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, প্রয়াগরাজ এবং পুণে থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও সাধু-সন্তু মন্দির চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেছেন।
বর্তমানে সেখানে দিনরাত চলছে সুন্দরকাণ্ড পাঠ, হনুমান চালিসা এবং মহা আরতি। হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং মহানির্মল আখড়ার সাধুরা এই ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। সাধুদের বক্তব্য— এটি কেবল কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাসের প্রতীক। তাই ধর্মীয় আবেগকে সম্মান জানিয়ে মূর্তিটি যেখানে আছে, সেখানেই রেখে দেওয়া উচিত।
বর্তমানে মন্দির এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যন্ত্রপাতির কাছে হার মানা এই ‘অচল’ মূর্তি এখন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিরাট আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করেছে।