‘সবে তো কান এসেছে, মাথাও আসবে!’ সুপ্রিম নির্দেশের পর সুমিত গ্রেপ্তার হতেই চড়ছে রাজনীতির পারদ

‘সবে তো কান এসেছে, মাথাও আসবে!’ সুপ্রিম নির্দেশের পর সুমিত গ্রেপ্তার হতেই চড়ছে রাজনীতির পারদ

নয়া দিল্লি ও কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ খারিজ হতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হলো তাঁর পিএ সুমিত রায়কে। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১২১ নম্বর কালীঘাট রোডের ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে সুমিতকে হেফাজতে নেয় রাজ্য সিআইডি।

সিনেমার কায়দায় ছদ্মবেশী নজরদারি গত দুই সপ্তাহ ধরে সুমিতের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন গোয়েন্দারা। সিআইডি সূত্রের খবর, ধরাছোঁয়া এড়াতে আধিকারিকরা পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পী থেকে শুরু করে গাড়ি চালকের ছদ্মবেশে ২৪ ঘণ্টা এলাকা ঘিরে রেখেছিলেন। অপেক্ষা ছিল কেবল আইনি ছাড়পত্রের। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করতেই শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান।

কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডির নাটকীয় প্রবেশ আদালতের সবুজ সংকেত পেতেই সিআইডি, রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেকের বাড়ির বাইরে পৌঁছায়।

  • দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন এক সিআইডি অফিসার।
  • গেটে ধাক্কা দিয়ে পরিচয় দেওয়ার পর ভেতর থেকে দরজা খুলে দেওয়া হয়।
  • অভিযানের গোপনীয়তা বজায় রাখতে নিরাপত্তারক্ষীরা বারান্দা পিচবোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি।
  • দ্রুত সুমিতকে বের করে ভবানীভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর শুক্রবারই তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হতে পারে।

মামলার প্রেক্ষাপট পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার জমি দুর্নীতি এবং ডেবরায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ায় সুমিতের। জুনে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই সুমিতের খোঁজে হানা দিয়েছিল পুলিশ। এর আগে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেও হাইকোর্টের রক্ষাকবচ থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। শীর্ষ আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন না সুমিত এবং সরকার পরিবর্তনের পর অ্যাকাউন্টে বিপুল নগদ লেনদেন হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আদালত স্পষ্ট জানায়— আর কোনো ছাড় নয়।

তপ্ত রাজনৈতিক মহল সুমিতের গ্রেপ্তারির খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে:

  • শুভেন্দু অধিকারী: বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তোপ দেগে বলেন, “১২১ নম্বর কালীঘাট রোড থেকে একজন নামী তোলাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি তো মূল সংগ্রাহক ছিলেন।”
  • কুণাল ঘোষ: ঘটনার দায় এড়িয়ে তৃণমূল মুখপাত্র জানান, “এই গ্রেপ্তারির বিষয়ে দলগতভাবে কিছু মন্তব্য করার নেই। তবে কোনো সদস্য নন এমন একজনের নাম বিধানসভায় তোলা রাজনীতি ছাড়া কিছু নয়।”
  • সুকান্ত মজুমদার: দিল্লিতে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আইন নিজের পথে চলেছে। নানা দুর্নীতির অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে সবে তো কান এসেছে, এ বার মাথাও আসবে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *