‘ওদের G7 বলে কেন জানি না!’ পশ্চিমী বিশ্বকে তীব্র কটাক্ষ পুতিনের, অর্থনীতিতে BRICS-এর নতুন রেকর্ড

‘ওদের G7 বলে কেন জানি না!’ পশ্চিমী বিশ্বকে তীব্র কটাক্ষ পুতিনের, অর্থনীতিতে BRICS-এর নতুন রেকর্ড

কলকাতা: বিশ্ব অর্থনীতিতে কার আধিপত্য বেশি—পশ্চিমের ধনী দেশগুলির জোট G7, নাকি উদীয়মান শক্তির জোড় BRICS? ২০২৬ সালের ‘BRICS বিজনেস সামিট’-এ এই প্রশ্নের সোজাসাপ্টা জবাব দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বকে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সরাসরি G7 দেশগুলির বর্তমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “ওদের এখনও কেন G7 বলা হয়, তা আমার বোধগম্য নয়।”

সামিটে বিশ্ব অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পুতিন দাবি করেন, বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে G7 দেশগুলির অবদান কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশে। অন্যদিকে, BRICS দেশগুলির যৌথ অংশীদারিত্ব পৌঁছে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশে। বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ভারতের দ্রুত বৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্যে আরও বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।

পশ্চিমী দেশগুলির জারি করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া যে নিজের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে দেন পুতিন। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের হারানো প্রভাব ফিরে পেতে এবং BRICS-এর উত্থান রুখতে অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করছে পশ্চিমী কিছু দেশ।

একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে BRICS-এর দুই দশকের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, ২০০৬ সালে মাত্র ৪টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই জোট আজ সদস্য ও অংশীদার দেশ মিলিয়ে ২১টি পরিবারের এক বিশাল শক্তি।

প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ জনসংখ্যা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে BRICS। গত ২০ বছরে বিশ্ব GDP যেখানে আড়াই গুণ বেড়েছে, সেখানে BRICS-এর সম্মিলিত GDP বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে আরও প্রসারিত করতে জোটের পরিধি আরও বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *