দিল্লিতে মোদী-শি শীর্ষ বৈঠক: ৭ বছর পর ভারতে জিনপিং, সীমান্ত ও বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ

দিল্লি: দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের আবহেই শনিবার ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে প্রায় ৫০ মিনিটব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দু’দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, ২০২৫ সালের অগস্টে তিয়ানজিন বৈঠকের পর এই আলোচনার মাধ্যমে সেই বরফ গলানোর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
বৈঠকে মূলত যে ৭টি মূল বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে:
- সীমান্তে শান্তি ও স্থায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির মূল শর্তই হলো সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা। পুরানো চুক্তি ও বোঝাপড়া মেনে চলে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগোনোর ওপর জোর দেন দুই নেতা।
- মতপার্থক্য যেন বিবাদ না হয়: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ‘পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ’—এই তিন নীতিতে জোর দিয়ে মোদী বলেন, দু’দেশের মতপার্থক্য যেন কোনওভাবেই বড় সংঘাতের আকার না নেয়।
- বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা দূর করা: ২০২৫ সালে ভারত-চিন বাণিজ্য রেকর্ড ১৫৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছলেও, চিন থেকে ভারতের প্রায় ১৩২ বিলিয়ন ডলার আমদানির ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই ঘাটতি কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- বাজার প্রবেশাধিকার ও সরবরাহ ব্যবস্থা: বিশ্বস্ত ও স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ার পাশাপাশি চিনের বাজারে ভারতের ব্যবসাকে আরও সহজ ও সুনির্দিষ্ট প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
- যোগাযোগ ও যাতায়াত বৃদ্ধি: ব্যবসা, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান এবং দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
- দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি: প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, মোদীর সঙ্গে তাঁর এটি ২১তম বৈঠক। দুই বৃহৎ শক্তির সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা প্রয়োজন এবং একে অপরের শক্তি থেকে শিখে সহযোগিতা করা উচিত।
- গ্লোবাল সাউথ ও বিশ্ব দায়িত্ব: বিশ্বের দুই বৃহৎ জনবহুল দেশ ও ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর প্রতিনিধি হিসেবে বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভারত ও চিনের বড় দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন শি জিনপিং।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদী সামাজিক মাধ্যমে জানান, ভারত-চিন সম্পর্কের সমস্ত দিক নিয়েই তাঁদের মধ্যে সার্থক আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছর চিনের ব্রিকস সভাপতিত্বের জন্য তিনি শুভেচ্ছাও জানান।
সীমান্তে স্থায়ী শান্তি রক্ষা এবং বাণিজ্য ঘাটতি মেটানোর মতো চ্যালেঞ্জগুলি রয়ে গেলেও, এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের বরফ গলে নতুন অধ্যায় শুরুর ইঙ্গিত স্পষ্ট।