সিআইডির জেরায় দোষ কবুল অভিষেকের আপ্তসহায়কের? জল্পনা উড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি আইনজীবীর!

সিআইডির জেরায় দোষ কবুল অভিষেকের আপ্তসহায়কের? জল্পনা উড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি আইনজীবীর!

শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে সিআইডি (CID) হেফাজতে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জোর জল্পনা শুরু হয় যে, সিআইডি-র জেরায় নাকি জমি দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন সুমিত! কিন্তু এবার সেই জল্পনায় জল ঢাললেন খোদ সুমিতের আইনজীবী।

কী দাবি সুমিতের আইনজীবীর? শনিবার বিকেলে সিআইডি হেফাজতে থাকা মক্কেলের সঙ্গে দেখা করতে যান সুমিতের আইনজীবী অগ্নিশ বসু। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দোষ স্বীকারের খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দেখানো হচ্ছে সুমিত নাকি দোষ কবুল করেছেন। আমি মক্কেলকে সরাসরি এই বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি আমাকে সাফ জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমন কোনও কিছুই হয়নি বা তিনি এমন কোনও কথা বলেননি।”

আদালতের নির্দেশেই আইনি পরামর্শের জন্য মক্কেলের সঙ্গে তিনি দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে জানান অগ্নিশ।

কীভাবে গ্রেফতার হলেন সুমিত? শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ইমরান শেখ। এই মামলাতেই নাম জড়ায় সুমিত রায়ের। শুরুতে তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেলেও, গত বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত সেই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপরই কালীঘাট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। শুক্রবার মেদিনীপুর জেলা আদালত তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ৮ দিনের সিআইডি হেফাজতে পাঠায়। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে ফের আদালতে পেশ করা হবে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: এই জমি দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা-সহ চারজনের নামে ইতিমধ্যেই ১৪ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে সিআইডি। তবে সেই চার্জশিটে এখনও সুমিতের নাম নেই। শীর্ষ আদালতে সিআইডির তরফে জানানো হয়েছে, সুমিত ও সুজয়কে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়েছে। সুমিতের আইনজীবীর দাবি, জেরার সেই পর্বের ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়েছে এবং সেখানে সুমিতকে টাকা পাঠানোর কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *