“৮০% ভারত আমিষ খায়, বিদেশি অতিথিদের ওপর থালা চাপানো কেন?” কেন্দ্রকে তোপ রাহুলের

“৮০% ভারত আমিষ খায়, বিদেশি অতিথিদের ওপর থালা চাপানো কেন?” কেন্দ্রকে তোপ রাহুলের

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনের বিশেষ নৈশভোজ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বনেতাদের জন্য আয়োজিত এই গালা ডিনারে সম্পূর্ণ নিরামিষ পদ পরিবেশন করাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরকারের পছন্দ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধী এক পোস্টে লেখেন, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী এবং দেশের আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু। কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরাও সুর চড়িয়ে জানান, বিজেপির নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ভারতের সমৃদ্ধ রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্য তুলে ধরার সুযোগ হারিয়েছে।

কংগ্রেসের এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আগত বিশ্বনেতাদের খাবারের মেনু নিয়ে রাজনীতি করা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। তাঁর দাবি, সম্মেলনে আসা বিদেশি প্রতিনিধিরা ভারতের ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর এই নিরামিষ খাবার অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গেই উপভোগ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আয়োজিত এই নৈশভোজে ভারতের আঞ্চলিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তুলতে খাণ্ডভি, পনির লাবাবদার, গুচ্চি মারমিক, মিলেট পোলাও, মাশরুম গলোটি এবং গরম গরম জিলিপি পরিবেশন করা হয়েছিল। বিশেষ করে ভারতের সুস্থায়ী জীবনধারা এবং ‘শ্রী অন্ন’ বা মিলেট নীতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্যদিকে, জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার (NFHS-5) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রায় ৮৩.৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৭০.৬ শতাংশ নারী আমিষ খাবার খেয়ে থাকেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *