গণেশ চতুর্থী ২০২৬: ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু উৎসব, জেনে নিন প্রতিমা স্থাপনের শুভ মুহূর্ত ও নিয়ম

সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি এবং বুদ্ধির দেবতা শ্রী গণেশের আরাধনায় মেতে ওঠার সময় চলে এসেছে। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, যেকোনো শুভ কাজের শুরুতে সিদ্ধিদাতার পুজো করার বিধান রয়েছে। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে অত্যন্ত জাঁকজমক ও ভক্তির সঙ্গে পালিত হয় পবিত্র গণেশ চতুর্থী। সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে এই দশ দিনব্যাপী উৎসব।
মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা ও গোয়া সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখন চলছে জোর প্রস্তুতি। তবে যাঁরা বাড়িতে গণেশ প্রতিমা স্থাপন করে পুজো করবেন, তাঁদের বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও আচার-অনুষ্ঠান মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
প্রখ্যাত জ্যোতিষীদের মতে, ভাদ্র শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে শুরু হয়েছে। যেহেতু শাস্ত্রমতে ভগবান গণেশ দুপুরে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং সোমবার দুপুরে চতুর্থী তিথি পূর্ণরূপে থাকছে, তাই এদিনই ঘরে ঘরে বাপ্পাকে স্থাপন করা শ্রেয়।
বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে, গণপতি বাপ্পা স্থাপন ও পুজোর সবচেয়ে শুভ সময় হলো সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। ভক্তদের এই সুনির্দিষ্ট আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিমা স্থাপন ও পুজো সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাড়ি আনার নিয়ম ও প্রতিমা স্থাপন বাপ্পাকে বাড়ি আনার সময় কিছু বিশেষ নিয়ম মানা প্রয়োজন। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরে মূর্তি আনতে যেতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, বাপ্পাকে বাড়ি নিয়ে আসার সময় রাস্তায় তাঁর চোখের উপর একটি লাল কাপড় বেঁধে রাখতে হয়, যা শুধুমাত্র মণ্ডপে বা বেদিতে স্থাপনের পরই খোলা নিয়ম। এরপর বাড়ির দরজায় বাপ্পা পৌঁছালে ফুল ছড়িয়ে ও আনন্দের সঙ্গে তাঁকে স্বাগত জানাতে হবে।
বাস্তু ও পূজার সঠিক দিক বাস্তুশাস্ত্র ও জ্যোতিষশাস্ত্রের নিয়ম মেনে, প্রতিমা স্থাপনের জন্য একটি কাঠের বেদি ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।
- বেদির ওপর লাল বা হলুদ কাপড় বিছিয়ে তা বাড়ির উত্তর-পূর্ব বা ঈশান কোণে স্থাপন করতে হবে।
- কাপড়ের ওপর একটি সিঁদুরের স্বস্তিকা চিহ্ন এঁকে আস্ত চালের দানা দিয়ে আট পাপড়ির একটি পদ্ম ফুল তৈরি করে তবেই তার ওপর প্রতিমা বসাতে হয়।
- মূর্তি স্থাপন করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সিদ্ধিদাতার পিঠ কখনও মূল দরজার দিকে বা বাইরে না থাকে, বরং বাপ্পার মুখ সর্বদা ঘরের ভেতরের দিকে বা পুজোদানকারীর মুখোমুখি থাকে। সঠিক নিয়ম ও নিষ্ঠা মেনে বাপ্পাকে বরণ করলে ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।