কাঠের খেলনা থেকে আধুনিক ঘর সাজানোর সামগ্রী, জিআই ট্যাগের নেপথ্য কাহিনী!

কাঠের খেলনা থেকে আধুনিক ঘর সাজানোর সামগ্রী, জিআই ট্যাগের নেপথ্য কাহিনী!

দক্ষিণ ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে লুকিয়ে থাকা এক জাদুকরী জনপদ হলো চন্নপত্তনা, যা বিশ্বজুড়ে ভারতের ‘খেলনা শহর’ হিসেবে পরিচিত। বেঙ্গালুরু ও মহীশূরের মাঝখানে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক শহরে পা রাখলেই রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রঙিন কাঠের খেলনা ও পুতুলের সমাহার নজর কাড়ে। স্থানীয় কন্নড় ভাষায় এই জায়গাকে বলা হয় ‘গোম্বেগালা ওরু’, যার অর্থ খেলনার শহর।

গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচারের তথ্য অনুযায়ী, এখানকার কারিগররা প্রায় তিনশ বছর ধরে নিখুঁতভাবে কাঠের খেলনা তৈরি করছেন। উজ্জ্বল রং ও মসৃণ পৃষ্ঠতলের এই খেলনার কদর চিরন্তন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই প্রাচীন শিল্প এখন আর শুধু খেলনার গণ্ডীতে আটকে নেই; কারিগররা তৈরি করছেন নান্দনিক গয়না, রান্নাঘরের বাটি, টেবিল কোস্টার এবং চমৎকার ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী।

এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস। অষ্টাদশ শতাব্দীর মহীশূরের শাসক টিপু সুলতান পারস্য থেকে একটি বার্নিশ করা খেলনা দেখে মুগ্ধ হয়ে স্থানীয় কারিগরদের পারস্যের শিল্পকলা শেখানোর ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে ১৯০৪ সালে মহীশূরের মহারাজা স্থানীয় কারিগর মিয়াঁ বাওয়াসমিয়াকে আধুনিক কৌশল শিখতে জাপানে পাঠান, যা এই শিল্পের দ্রুত বিকাশে বিপ্লব আনে।

সাফল্যের এই ধারা বজায় রেখে ২০০৬ সালে চন্নপত্তনার ঐতিহ্যবাহী খেলনা এবং পুতুল ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই ট্যাগ লাভ করে। চিরায়ত কাঠের খেলনার পাশাপাশি আধুনিক কর্মশালাগুলো এখন বিশ্বমানের গৃহসজ্জার সামগ্রী ও বোর্ড গেমও তৈরি করছে। দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে এই ঐতিহাসিক খেলনা শহরে ঢুঁ মারা আপনার অভিজ্ঞতাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *