“অজানা জ্বর” লিখে তথ্য গোপন নয়! ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের

“অজানা জ্বর” লিখে তথ্য গোপন নয়! ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের

উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই পশ্চিমবঙ্গে জাঁকিয়ে বসেছে ডেঙ্গির আতঙ্ক। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন নতুন করে শয়ে শয়ে মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়তির দিকে।

স্বাস্থ্য দফতরের গত ৬ অগাস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৫,০০২ জনের শরীরে ডেঙ্গি পজিটিভ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে সংক্রমণের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা—যেখানে শুধুমাত্র এক জেলাতেই ১,০৭২ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

রাজধানী কলকাতাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ পার করেছে। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনায় ৪৫০ জন, নদীয়ায় ৪০০-র বেশি, মালদহে প্রায় ৪০০, হাওড়া ও হুগলি জেলায় যথাক্রমে ৩২৫ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানে ২৫৬, পশ্চিম বর্ধমানে ১৫৪, পূর্ব মেদিনীপুরে ১২৬, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১০৪ এবং ঝাড়গ্রামে ৫৪ জনের রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপসর্গ থাকা মোট ৬,৮২৬ জন রোগীর রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল।

এক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ

পরিসংখ্যান বলছে, অগাস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে সংক্রমণের গতি ছিল মারাত্মক। গত ৬ অগাস্ট পর্যন্ত যেখানে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২,৪১০ জন, ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা লাফিয়ে ৫,০০২ জনে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কোনোভাবেই তথ্য গোপন করা যাবে না। প্রেসক্রিপশনে ‘অজানা জ্বর’ না লিখে ডেঙ্গি হলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এই কড়া বার্তার পর থেকেই নিয়মিত হেলথ বুলেটিন প্রকাশ শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গির জ্বর সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন বা তার বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে এবং এই সময়ে তীব্র শরীর ব্যথার সম্ভাবনা থাকে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রজত বসুর মতে, “পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি এখন আর শুধুই কোনো ঋতুভিত্তিক সমস্যা নয়, এটি একটি স্থায়ী জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, দ্রুত নির্মাণকাজ, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাতাসে দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা ও উষ্ণতা বজায় থাকছে। এই পরিবেশ এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ, যার ফলে শুধু বর্ষায় নয়, বছরের অনেকটাই সময় সক্রিয় থাকছে এই মশা।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *