‘ইন্ডিয়া’ জোটে ভাঙন ধরাতেই কি ইডির চাল? পিনারাইয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর ইস্যুতে সরব বিধায়ক

কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও তাঁর পরিবারকে ঘিরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সাম্প্রতিক পদক্ষেপে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই আইনি তৎপরতাকে সরাসরি “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত” বলে তোপ দেগেছেন ইউডিএফ সমর্থিত নির্দল বিধায়ক টি কে গোবিন্দন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের মধ্যে ফাটল ধরানো এবং কেরলের রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভ্রান্তি তৈরি করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পাঠায় ইডি। যেখানে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে বীণা, জামাই এবং কয়েকজন ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানানো হয়। কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল) ঘুষ কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে সংগৃহীত নথির ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। ইডির দাবি, সিএমআরএল নামক সংস্থাটি অসৎ উপায়ে বীণার কো ম্পা নির অ্যাকাউন্টে প্রায় ২.৭৮ কোটি টাকা হস্তান্তর করেছে। এই মামলার সূত্র ধরে গত জুন মাসেই বীণার একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।
এই আবহে সোমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন তালিপারম্বার বিধায়ক তথা প্রাক্তন সিপিআই(এম) নেতা গোবিন্দন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ইডি যদি নিজেদের সংগৃহীত প্রমাণে এতটা নিশ্চিত হয়, তবে তারা নিজেরাই কেন সরাসরি এফআইআর দায়ের করছে না? রাজ্য পুলিশের কাঁধে এই দায়িত্ব চাপানোর পেছনে অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গোবিন্দন জানান, অনিয়ম হয়ে থাকলে মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ের বিরুদ্ধে বিধিসম্মত তদন্তে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিত্বকে কোণঠাসা করাই যদি এজেন্সির একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে পিনারাই বিজয়নকে ঘিরে ইডির এই চাল ঘিরে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।