“চিঠি পাঠালেও মেলেনি উত্তর!” উপনির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণার পথে আইএসএফ

“চিঠি পাঠালেও মেলেনি উত্তর!” উপনির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণার পথে আইএসএফ

কলকাতা: বাম-কংগ্রেস সমঝোতার পর এবার ফাটল চওড়া হলো বাম-আইএসএফ (ISF) জোটের সমীকরণেও। আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়ে দিলেন, বামফ্রন্ট তাঁদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

একতরফা প্রার্থী ঘোষণার অভিযোগ আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বিধানসভা উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। গত শনিবার এই দুই আসনেই নিজেদের প্রার্থী নাম ঘোষণা করে বামফ্রন্ট—নন্দীগ্রামে সিপিআই-এর শান্তিগোপাল গিরি এবং রেজিনগরে সিপিআই(এম)-এর সইদ আসাদ আলি লড়ছেন। কিন্তু অভিযোগ, এই প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে জোটসঙ্গী আইএসএফ-এর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি।

বিস্ফোরক নওশাদ সিদ্দিকী এই বিষয়ে মুখ খুলে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “বামফ্রন্টের চেয়ারম্যানকে পরপর তিনবার চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের ঠিক কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়েও কোনো আলোচনা হয়নি। বামফ্রন্ট একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এখন সাধারণ মানুষই বিচার করুন, আইএসএফ জোট ভেঙেছে নাকি তাদের জেনেশুনে বের করে দেওয়া হলো?”

উপনির্বাচনে আইএসএফ-এর রণকৌশল উপনির্বাচনে দলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ স্পষ্ট করে নওশাদ জানান, দলীয় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে যে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আইএসএফ কোনো প্রার্থী দেবে না। তবে নন্দীগ্রাম আসনে কোনো রকম সমঝোতা ছাড়াই একক শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আইএসএফ।

রাজনৈতিক সমীকরণ গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটিতে আইএসএফ প্রার্থী দিলে সিপিআই(এম) তাঁদের সমর্থন করেছিল। কিন্তু আসন বণ্টন ও দলীয় টানাপোড়েন নিয়ে তৈরি হওয়া দূরত্ব এবার পুরোপুরি প্রকাশ্যে চলে এল। উপনির্বাচনের মুখে বাম ও আইএসএফ-এর এই দ্বিমুখী অবস্থান নন্দীগ্রামের ভোট ময়দানে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *