পাহাড়ের পঞ্চায়েতে ‘স্পেশাল অডিট’! ১১ হাজার পদে নিয়োগের বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

শিলিগুড়ি: গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতের কাজে কোনো ধরণের অনিয়ম বা দুর্নীতি বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করা হবে না— শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক শেষে পঞ্চায়েত স্তরের দুর্নীতি রুখতে একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি।
পাহাড়ের ১০% পঞ্চায়েতে ‘স্পেশাল অডিট’ জিটিএ (GTA) এলাকা সহ পাহাড়ের যে সমস্ত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলিতে বিশেষ হিসাব পরীক্ষা বা ‘স্পেশাল অডিট’ শুরু হয়েছে। মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অন্তত ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতকে এই অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। জিটিএ-র নতুন নেতৃত্ব এবং জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পরিকাঠামোগত ফাঁকফোকর দূর করার কাজ চলছে।
১১ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ ও উন্নয়ন পর্যালোচনা দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার আবাসন যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত দপ্তরের দুই প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক ও আনন্দময় বর্মন।
বৈঠকে উঠে আসা মূল বিষয়সমূহ:
- কাজের ধীরগতি ও তার কারণ: পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং লোকবলের ঘাটতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে কাজ ধীরগতিতে চলছে।
- বিডিও-দের স্পষ্ট নির্দেশ: সমস্যা সমাধান করে কাজের গতি বাড়াতে প্রতিটি বিডিও-কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ১১ হাজার কর্মী নিয়োগ: পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে খালি থাকা প্রায় ১১,০০০ শূন্যপদে খুব শীঘ্রই লোক নিয়োগ করা হবে।
উপনির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে যে জনমুখী কাজ চলছে, তাতে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট। আসন্ন উপনির্বাচনেও এই উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধীদের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে পাত্তা না দিয়ে সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল একমনে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাওয়া বলেই জানান তিনি।