“বসের নির্দেশেই সব করেছি!” শালবনী কেলেঙ্কারিতে সিআইডি-র কাছে মুখ খুললেন সুমিত, নেপথ্যে কোন মহাপ্রভাবশালী?

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী জমি কেলেঙ্কারি মামলায় তৈরি হলো এক চাঞ্চল্যকর মোড়। সিআইডি (CID) হেফাজতে থাকা মূল অভিযুক্ত সুমিত রায় তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, তিনি একা কিছু করেননি—সবটাই ঘটেছে উপরতলার ‘মহাপ্রভাবশালী’ এক ব্যক্তির নির্দেশে।
ভবানী ভবনে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (SIT) ৮ দিনের হেফাজতে রয়েছেন সুমিত। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৮০ ধারায় নথিভুক্ত করা জবানবন্দিতে তিনি জানান, শালবনীর কোটি কোটি টাকার সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল, জাল দলিল তৈরি এবং বিপুল অঙ্কের বেআইনি আর্থিক লেনদেনের পেছনে আসল ভূমিকা ছিল সেই প্রভাবশালীরই। তিনি কেবল আদেশ পালনকারীর মতো কাজ করেছেন।
বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে সুমিতকে? সুর চড়ালেন স্ত্রী
সুমিতের গ্রেফতারি ও জবানবন্দির পর মুখ খুলেছেন তাঁর স্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন:
- সুমিতকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চক্রান্তের শিকার বানানো হচ্ছে।
- তিনি কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন, আসল সুবিধাভোগীরা আড়ালেই থেকে গেছেন।
- স্বামীর জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কিত পরিবার।
তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, আইনি প্যাঁচে মামলা
সুমিতের মুখে ‘প্রভাবশালী’ শব্দটির উল্লেখ আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ একধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতির শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ানো এবং মূল চক্রান্তকারীকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে আনা দরকার।
বর্তমানে সিআইডি সুমিতের এই বয়ানকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন ও অন্যান্য নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের ইঙ্গিত, সুমিতের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খুব শীঘ্রই ওই ‘মহাপ্রভাবশালী’ ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।
শালবনীর এই হাইপ্রোফাইল দুর্নীতিতে সুমিত রায় কি শেষ পর্যন্ত ‘রাজসাক্ষী’ হয়ে উঠবেন, নাকি মামলার জালে জড়াবে আরও বড় কোনো নাম—এখন সেদিকেই নজর সবার।