কিম জং উনের চরম হুঙ্কার! ‘পরমাণু শক্তিধর হবই’ বলেই জোড়া মিসাইল ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

কিম জং উনের চরম হুঙ্কার! ‘পরমাণু শক্তিধর হবই’ বলেই জোড়া মিসাইল ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

পশ্চিমী দেশগুলির যাবতীয় হুঁশিয়ারি উড়িয়ে ফের শক্তিপ্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী করার হুমকির ঠিক পরেই রবিবারে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পূর্ব উপকূল থেকে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা জানিয়েছে, এর মধ্যে প্রথমটি ছিল একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও এই মিসাইল পরীক্ষার কথা নিশ্চিত করেছে। জাপানের সরকারি সংবাদমাধ্যম NHK সূত্রের খবর, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোনের (EEZ) বাইরে সাগরে গিয়ে পড়েছে। ফলে দেশের মূল ভূখণ্ডে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

কোথা থেকে চালানো হল হামলা? দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার ওয়নসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে স্থানীয় সময় দুপুর ৩টে নাগাদ প্রথম মিসাইলটি ছোড়া হয়। এর কিছু পরেই একই দিশায় দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করে কিম জং উনের সেনা।

সিওলে জরুরি বৈঠক ও তীব্র নিন্দা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই কোরিয়ার সীমান্তে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতরে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (NSC) জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। সিওল এই মিসাইল পরীক্ষার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করেছে যে, পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি বিঘ্নিত করার একটি বিপজ্জনক চেষ্টা।

কেন হঠাৎ চড়ছে উত্তেজনার পারদ? মূলত আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করেই খেপেছে পিয়ংইয়ং। গত ২৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুয়ামের কাছে আমেরিকার নেতৃত্বে তিন দেশের একটি মেগা নৌ-মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

এর জবাবেই সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সর্বময় প্রধান কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং সাফ জানান, পশ্চিমী জোটের এই সামরিক মহড়াই উপদ্বীপে অশান্তির মূল কারণ। বিশ্বের অন্য দেশ যাই করুক না কেন, উত্তর কোরিয়া নিজের পরমাণু ক্ষমতা বাড়ানো থেকে একচুলও সরবে না।

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল উত্তর কোরিয়া। এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর দু’বার এই ধরনের সামরিক পরীক্ষা বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *