পুলিশ আসতেই ফাঁকা গ্যালিফ স্ট্রিট! রবিবারের জনপ্রিয় পোষ্য হাটে কেন কড়া অ্যাকশন?

পুলিশ আসতেই ফাঁকা গ্যালিফ স্ট্রিট! রবিবারের জনপ্রিয় পোষ্য হাটে কেন কড়া অ্যাকশন?

রবিবার সকালেই সরগরম উত্তর কলকাতার বিখ্যাত গ্যালিফ স্ট্রিট! তবে কেনাকাটার ভিড় নয়, পুলিশ ও শুল্ক দপ্তরের যৌথ অভিযানে হইচই পড়ে গেল ঐতিহ্যবাহী পোষ্য হাটে। KMC-র ট্রেড লাইসেন্স না থাকা এবং বেআইনি বন্যপ্রাণী কেনাবেচার অভিযোগে অভিযান চালাতেই তড়িঘড়ি পসার গুটিয়ে নিলেন ব্যবসায়ীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই খাঁ খাঁ করে উঠল পুরো হাট।

এক নজরে মূল তথ্য:

  • আচমকা তল্লাশি: রবিবারের ভোরে পুলিশ ও কাস্টমস দপ্তরের বিশেষ টিম পৌঁছায় গ্যালিফ স্ট্রিটে।
  • কঠোর নিয়ম: কেএমসি (KMC)-র বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যবসা করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
  • হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ: টিয়া, পাহাড়ি ময়না বা চন্দনার মতো সংরক্ষিত প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী কেনাবেচা রুখতে আদালতের কড়া অবস্থান।
  • সমিতির দাবি: নিবন্ধিত সদস্যরা সমস্ত নিয়ম মেনেই ব্যবসা করেন, বাইরে থেকে আসা কিছু অসাধু লোকই অবৈধ কারবার চালাচ্ছে।

হাইকোর্টের কড়া বার্তা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ২০২০ সালের একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার ভিত্তিতে সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বৈধ পোষ্যের আড়ালে টিয়া, চন্দনা বা পাহাড়ি ময়নার মতো সংরক্ষিত পাখি বিক্রি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের নির্দেশ পেয়েই রবিবার সকালে ময়দানে নামে পুলিশ ও শুল্ক দপ্তর। ট্রেড লাইসেন্স না থাকা ব্যবসায়ীদের হাট ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঐতিহ্যবাহী হাটের ইতিহাস উত্তর কলকাতার গ্যালিফ স্ট্রিটের এই পোষ্য হাট শহরের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ। ১৯৯৬ সালে হাতিবাগান থেকে এই হাট স্থানান্তরিত হয়ে গ্যালিফ স্ট্রিটে আসে। প্রতি রবিবার খড়দহ, ব্যান্ডেলসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ কুকুর, পাখি, অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ ও বিরল প্রজাতির গাছ কিনতে এখানে ভিড় জমান।

কী বলছে হাট কর্তৃপক্ষ? বাগবাজার সখের হাট ওয়েলফেয়ার সমিতির দাবি, হাটের বৈধ সদস্যরা কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁদের প্রত্যেকের লাইসেন্স রয়েছে। মূলত বাইরের কিছু অসাধু বিক্রেতা অননুমোদিত পোষ্য বিক্রি করার ফলেই এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *