পুরনো ভবনে আর কুলোচ্ছে না! বাংলায় সংগঠন বাড়তেই নিউ টাউনে বিরাট কার্যালয় RSS-এর

পুরনো ভবনে আর কুলোচ্ছে না! বাংলায় সংগঠন বাড়তেই নিউ টাউনে বিরাট কার্যালয় RSS-এর

পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্ত করতে বড়সড় পরিকাঠামোগত পদক্ষেপ নিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। উত্তর কলকাতার পুরনো কার্যালয়ের পাশাপাশি এবার নিউ টাউনে মাথা তুলে দাঁড়াল সংগঠনের চারতলা নতুন ভবন। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২ডি (2D)-তে নির্মিত এই ভবনের নাম রাখা হয়েছে ‘কেশব স্মৃতি’।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভবনের উদ্বোধন হতে চলেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন RSS-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবালে। এছাড়া বঙ্গীয় RSS-এর শীর্ষ কর্মকর্তা ও স্বয়ংসেবকরা উপস্থিত থাকবেন।

কেন এই নতুন ভবনের প্রয়োজন? দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কলকাতার অভেদানন্দ রোডের ‘কেশব ভবন’ থেকেই রাজ্যে RSS-এর যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল। তবে গত কয়েক বছরে বাংলায় সংগঠনের পরিধি ও স্বয়ংসেবকদের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। ফলে পুরনো ভবনে জায়গা নিয়ে তৈরি হচ্ছিল জটিলতা। বাইরের রাজ্য থেকে আসা পদাধিকারীদের থাকা, বড় সভা আয়োজন কিংবা প্রশাসনিক কাজ সামলানোর ক্ষেত্রে পরিসর ছোট পড়ছিল। সেই অভাব মেটাতেই এই নতুন চারতলা ভবন।

নিউ টাউনের কৌশলগত গুরুত্ব: নতুন কার্যালয়টি নিউ টাউনে করার পেছনে ভৌগোলিক অবস্থান বড় ভূমিকা পালন করেছে:

  • সহজ যাতায়াত: কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিউ টাউন অত্যন্ত কাছে। ফলে দিল্লি বা দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে আসা কেন্দ্রীয় নেতাদের যাতায়াতে সময় অনেকটাই বাঁচবে। উত্তর কলকাতার যানজট এড়ানো সহজ হবে।
  • আধুনিক সুযোগ-সুবিধা: নতুন চারতলা ভবনে সাংগঠনিক বৈঠকের জন্য বড় কক্ষ, প্রশাসনিক কাজের আধুনিক ব্যবস্থা এবং সফররত নেতাদের থাকার পর্যাপ্ত সুবিধা রাখা হয়েছে।

মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের আগ্রহের দাবি: সংগঠন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বাংলায় RSS-এর কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সমাজভিত্তিক যোগাযোগও বেড়েছে। এমনকি মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও স্কলারও RSS-এর সঙ্গে যুক্ত হতে বা কাজ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করছেন।

নামকরণের পেছনে ইতিহাস: ভবনটির নাম ‘কেশব স্মৃতি’ দেওয়ার পেছনে গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। ১৯২৫ সালে নাগপুরে ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের হাত ধরে পথচলা শুরু করেছিল RSS। শতবর্ষ অতিক্রান্ত হওয়ার পর বাংলায় এই নতুন কেন্দ্র তৈরিকে নিছক ‘ঠিকানা বদল’ বলতে নারাজ সংঘ নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, এটি রাজ্যে সংগঠনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও প্রসারেরই স্পষ্ট প্রমাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *