ভোট ৬ তারিখ, ৫ পর্যন্ত জেলেই কংগ্রেস প্রার্থী! নন্দীগ্রামে তুঙ্গে আইনি জট

নন্দীগ্রাম: উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তাপ নন্দীগ্রামে। ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই আইনি জটিলতায় ব্যাকফুটে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ, আর তার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মিলনকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে হলদিয়া মহকুমা আদালত। ফলে নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রচারপর্বে কারারুদ্ধই থাকতে হচ্ছে কংগ্রেসের এই মুখকে।
একাধিক মামলা ও আইনি টানাপোড়েন ২০০৭ সালের ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ের একটি পুরনো খুনের মামলাতেই মূল জট। পাশাপাশি খেজুরি থানার একটি অস্ত্র মামলাসহ মিলনের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় মোট চারটি মামলা রয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ। গত শুক্রবার চণ্ডীপুর থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
সোমবার দুই আদালতের আইনি প্রক্রিয়া সামলাতে হয় তাঁকে। হলদিয়া উপ-সংশোধনাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি কাঁথি আদালতের শুনানিতে অংশ নেন। একই দিনে হলদিয়া আদালত তাঁর জেল হেফাজতের মেয়াদ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।
হাইকোর্টের দিকে পাখির চোখ আইনি জট কাটিয়ে স্বস্তি পেতে রাজ্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মিলনের আইনজীবী। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানির কথা রয়েছে। আদালতে মিলনের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে গ্রেফতারি এড়াতে প্রার্থীর জন্য আইনি রক্ষাকবচের আবেদন জানানো হয়েছে।
ময়দানে স্ত্রী, সুর চড়াচ্ছে কংগ্রেস প্রার্থী জেলে থাকলেও নন্দীগ্রামের ভোটের ময়দান ছাড়তে নারাজ কংগ্রেস। মিলনের হয়ে প্রচারের ব্যাটন হাতে তুলে নিয়েছেন তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। এক ভিডিও বার্তায় নন্দীগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে আবেগঘন আবেদন জানিয়ে তিনি গ্রেফতারির সময়কাল নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্ন তোলেন। অর্পিতার বক্তব্য, “ভোটে সঠিক রায় দিয়েই মানুষ এই মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের জবাব দিক।”
ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন চলে এসেছে মিলন প্রধানের এই আইনি লড়াই। হাইকোর্ট থেকে তিনি কোনো সাময়িক স্বস্তি পান কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।