নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে ও ধর্ষণ! চিৎপুর থানার তদন্তে অভিযুক্তের ২০ বছরের জেল

১৭ বছরের এক নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে এবং বারবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী অমিত প্রামাণিককে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের চিৎপুর থানার তৎপরতা এবং নিখুঁত তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই এই রায় দিয়েছে আদালত।
ঘটনার পেছনের বিবরণ ২০২৫ সালে ১৭ বছরের ওই কিশোরীকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের পর থেকে তাঁর ওপর ক্রমাগত শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতনের কারণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে একটি শিশুর জন্ম দেন।
তদন্তে কলকাতা পুলিশের বড় সাফল্য অভিযোগ মেলার পরেই তদন্তে নামেন চিৎপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সৌরভ রায়। দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অমিত প্রামাণিককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে মামলাটি শক্তপোক্তভাবে প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ডিজিটাল ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করে পুলিশ।
যেসব ধারায় সাজা দেওয়া হলো আদালতে শুনানি শেষে বিচারক অভিযুক্ত অমিত প্রামাণিককে একাধিক আইনে দোষী সাব্যস্ত করেন:
- ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS): ৬৪(২) ধারা
- পকসো (POCSO) আইন: ৬ নম্বর ধারা
- বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন: ৯ নম্বর ধারা
সব ধারা মিলিয়ে অভিযুক্তকে মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শিশু সুরক্ষায় কড়া বার্তা কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ায় নির্যাতিতাকে ন্যায়বিচার এনে দেওয়াই তদন্তকারী দলের মূল লক্ষ্য।