ডিজিটাল অ্যারেস্টে আড়াই কোটির জালিয়াতি! সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের, তোপের মুখে ব্যাঙ্ক

কলকাতা: ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে আড়াই কোটি টাকারও বেশি জালিয়াতির মামলায় বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। তদন্তে রাজ্য পুলিশের গাফিলতি ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতায় ক্ষুব্ধ হয়ে নরেন্দ্রপুর থানার এই হাই-প্রোফাইল মামলাটির ভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)-র হাতে তুলে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
সহজ ভাষায় ঘটনার মূল পয়েন্টগুলি দেখে নিন:
- বিশাল অংকের জালিয়াতি: ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এক প্রবীণ নাগরিককে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর হুমকি দিয়ে ২ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা: গত বছরের ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এক স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় নির্দেশ দিয়েছিল যে, দেশজুড়ে এই ধরনের সমস্ত ডিজিটাল অ্যারেস্ট জালিয়াতির তদন্ত করবে সিবিআই।
- হাইকোর্টের কড়া মনোভাব: পুলিশ তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে না পারায় হাইকোর্ট নরেন্দ্রপুর থানাকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কেস ডায়েরিসহ সমস্ত নথি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতে ব্যাঙ্কের ভর্ৎসনা: “গিয়ে সিবিআই-এর কাছে জবাব দিন!”
এ দিনের শুনানি চলাকালীন এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকে হাইকোর্ট। সিবিআই তদন্তের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে মৃদু আপত্তি জানানোর চেষ্টা করা হলে কড়া ভাষায় তাদের ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
ব্যাঙ্কের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের সুরক্ষায় কোনো ‘গ্রিভান্স রিড্রেসাল পোর্টাল’ তৈরি করেছে কি? আগে সেটা দেখাক। ব্যাঙ্কের ভূমিকা নিয়ে আমাকে মুখ খোলাবেন না। এবার গিয়ে সিবিআই-এর কাছেই জবাব দিন।”
পুলিশ থেকে সিবিআই-এর হাতে ব্যাটন
সাইবার অপরাধীদের এই নতুন ফাঁদে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকরা যেভাবে সর্বস্ব হারাচ্ছেন, তাতে সিবিআই তদন্তই একমাত্র যুক্তিযুক্ত সমাধান বলে মনে করছে আদালত। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মামলা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।