‘বাংলা-বিহারে নির্বাচন বাতিল হোক!’ কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ কপিল সিব্বলের

‘বাংলা-বিহারে নির্বাচন বাতিল হোক!’ কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ কপিল সিব্বলের

নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন রাজ্যসভা সাংসদ কপিল সিব্বল। কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় স্তরের ইআরও (ERO)-দের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে দাবি করে বাংলা ও বিহারের নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

কপিল সিব্বলের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় ইআরও-দের মূল ভূমিকা থাকার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারের কারণে তাঁদের হাত বেঁধে ফেলা হয়েছে। সফটওয়্যারে সম্পূর্ণ এক্সেস না থাকায় ইআরও-রা নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তও কার্যকর করতে পারছেন না। উদাহরণ হিসেবে গোয়ার একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ইআরও-রা নথি যাচাইয়ের পর ২৭ জন ব্যক্তিকে যোগ্য ঘোষণা করলেও কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারে সেই অনুমোদন প্রতিফলিত হয়নি।

কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তুলে ধরে সিব্বল জানান, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ডিজিটাল পদ্ধতির এই পরিবর্তন এবং ইআরও-দের ক্ষমতা সঙ্কুচিত করা নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০ মাসে দুই কমিশনার অন্তত ১৪টি লিখিত আপত্তি জানালেও কমিশন তা গুরুত্ব দেয়নি। ১৬ এপ্রিলের বৈঠক এবং মে মাসে ‘ফর্ম ৬’-এর পরিবর্তন নিয়েও বিবেক যোশী সতর্ক করেছিলেন বলে সিব্বল দাবি করেন।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েকটি কড়া দাবি জানিয়েছেন সিব্বল:

  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
  • ডিজিটাল ব্যবস্থার অসঙ্গতি ও কারচুপির অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে।
  • সুপ্রিম কোর্টের উচিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বৈধতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া।
  • বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলা ও বিহারের নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা উচিত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্বে যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তা আজ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে সমস্ত বিতর্ক খারিজ করে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্তই কমিশনের তিন সদস্যের সর্বসম্মতি ও অনুমোদনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের জল এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *