‘খাম’ নিয়ে সংঘাত! নওশাদদের চিহ্নে লড়ছে অন্য দল, রিপোর্ট তলব করল হাইকোর্ট

আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচারপর্বের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে জোর আইনি জটিলতা তৈরি হলো। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে যে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে লড়াই চালিয়ে আসছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF), সেই একই প্রতীক নবগঠিত অন্য রাজনৈতিক দলকে কেন বরাদ্দ করা হলো—তা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
সম্প্রতি শাসকদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে ‘ঘাসফুল’ প্রতীক স্থগিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে (ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস) ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করে। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত প্রতীক অন্য দলকে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তড়িঘড়ি আদালতের দ্বারস্থ হয় আইএসএফ নেতৃত্ব।
আইএসএফ-এর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, ২০২১ সাল থেকে আইএসএফ নিবন্ধিত দল হিসেবে এই ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করছে। এভাবে হঠাৎ সেই প্রতীক অন্য অননুমোদিত দলকে দিয়ে দিলে ভোটারদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে।
শুনানি চলাকালীন হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চান, একই প্রতীক দুটি ভিন্ন দলকে দিয়ে কীভাবে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব? কমিশনের আইনজীবী অমৃতা পাণ্ডে একে ‘ফ্রি সিম্বল’ বা মুক্ত প্রতীক বলে দাবি করলেও আদালত তা মেনে নেয়নি। বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি প্রতীক অন্য দলকে দিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কীভাবে একই প্রতীক নিয়ে দুই দল ভোটে লড়বে এবং এই জট কাটাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা কমিশনকে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে জানাতে হবে।