‘মোহর’ থেকে বাজেয়াপ্ত নথি! দুর্গাপুজো দুর্নীতি কাণ্ডে ইন্দ্রনীল সেনকে ইডির সমন

দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো (UNESCO) হেরিটেজ স্বীকৃতিকে সামনে রেখে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার মামলায় বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরিট (ইডি)। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের হুগলির বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এ টানা ১২ ঘণ্টা তল্লাশি চালানোর পর এবার তাঁকে সরাসরি সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হল।
ইডি সূত্রে খবর, বুধবার সকাল ১০টায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হবে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
কী এই ‘দুর্গাপুজো দুর্নীতি’? অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর সংস্থা ‘মাস-আর্ট’ (Mass Art)।
- কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর ‘মাস-আর্ট’ নিজেদের ইউনেস্কোর ‘অফিসিয়াল পার্টনার’ বলে দাবি করতে শুরু করে।
- অভিযোগ, সংস্থার কর্তারা বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ভুয়ো ভিআইপি পাস ও প্রিভিউ শো-এর মহার্ঘ টিকিট বিক্রি করেন।
- টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে তা ব্যক্তিগত স্বার্থে তছরুপ করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
‘মোহর’-এ ম্যারাথন হানা ও বাজেয়াপ্ত নথি সম্প্রতি কসবা সহ রাজ্যের প্রায় ১৫টি এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি। একই সাথে হুগলিতে কয়েক বিঘা জমির ওপর তৈরি ইন্দ্রনীল সেনের বিলাসবহুল ফার্মহাউস ‘মোহর’-এর দরজা বন্ধ করে টানা ১২ ঘণ্টা চিরুনি তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘ অভিযান শেষে তদন্তকারীরা একাধিক ভর্তি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে আসেন, যাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশ থেকে ইডির হাতে মামলা চলতি বছরের জুন মাসে কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম প্রতারণা ও ভুয়ো টিকিট বিক্রির এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। কিন্তু আর্থিক অনিয়মের মাত্রা বিরাট হওয়ায় প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে তদন্তভার হাতে নেয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি। সেই তদন্তের শিকড়ে পৌঁছতেই এবার নথিপত্র সহ প্রাক্তন মন্ত্রীকে তলব করা হলো।