প্রেমের বিয়েতেই ট্র্যাজেডি! বারাসাতে এক রাতেই ২ তরুণীর রহস্যমৃত্যু, ধৃত ৪

প্রেমের বিয়েতেই ট্র্যাজেডি! বারাসাতে এক রাতেই ২ তরুণীর রহস্যমৃত্যু, ধৃত ৪

বারাসাত: প্রেমের সম্পর্কের পর বাঁধাপড়ার স্বপ্ন নিয়ে লাল শাড়ি পরেছিলেন দু’জনেই। কিন্তু বছর ঘোরার আগেই সেই স্বপ্নের মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল বারাসাতের দুই প্রান্তে। মঙ্গলবার রাতে বারাসাতের শালবাগান ও বাদু এলাকায় দুই গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দু’টি ভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে মৃত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বারাসাত থানার পুলিশ।

ঘটনা ১: স্বামী গোপন করেছিলেন আগের দুই বিয়ে, ৩ মাসের মাথায় গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে বারাসাতের শালবাগান এলাকায়। দমদমের বাসিন্দা রিয়া দেবনাথ একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজের সুবাদে শালবাগানের প্রসেনজিৎ বসুর প্রেমে পড়েন। পরিবারের অমতে মাত্র তিন মাস আগে প্রসেনজিতের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রিয়া।

রিয়ার পরিবারের দাবি, বিয়ের কিছুদিন পর রিয়া জানতে পারেন প্রসেনজিৎ আগে আরও দু’টি বিয়ে করেছিলেন! প্রথম স্ত্রী মারা গিয়েছেন এবং দ্বিতীয় পক্ষে একটি সন্তানও রয়েছে। এই প্রতারণার কথা সামনে আসতেই দম্পতির মধ্যে শুরু হয় তীব্র অশান্তি। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় রিয়ার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন প্রসেনজিৎ।

মঙ্গলবার রাতে অশান্তি চরমে উঠলে দমদম থেকে রিয়ার বাবা-মা শালবাগানের শ্বশুরবাড়িতে ছুটে আসেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা রিয়াকে গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে বারাসাত থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। মৃতার মা সোনালি দেবনাথের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আর জি কর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রিয়ার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্বামী প্রসেনজিৎ বসুকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনা ২: পণের দাবি ও অপমান, বাপের বাড়িতে আত্মঘাতী এসএফআই কর্মী

দ্বিতীয় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে বারাসাতের বাদুর গুস্তিয়া এলাকায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভালোবেসে বাদুর বাসিন্দা সৌম্যদীপ সেনগুপ্তকে বিয়ে করেন অর্ণবী চট্টোপাধ্যায়। অর্ণবী স্থানীয় এসএফআই কর্মী ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অর্ণবীর ওপর অতিরিক্ত বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দেওয়া হতো। টাকা আনতে অস্বীকার করায় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অর্ণবী সম্প্রতি নিজের বাপের বাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেন।

মঙ্গলবার রাতে সংসার টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা করতে অর্ণবী ফের শ্বশুরবাড়িতে যান। অভিযোগ, সেখানে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে চরম অপমান ও হেনস্থা করে সাফ জানিয়ে দেন যে তাঁরা আর সংসার করবেন না। অপমানে ভেঙে পড়ে অর্ণবী বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন। সেই সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি আত্মঘাতী হন।

ঘটনায় মৃতার মা কাকলি চট্টোপাধ্যায় বারাসাত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পণের জন্য মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই স্বামী সৌম্যদীপ সেনগুপ্ত, শ্বশুর সমীর সেনগুপ্ত এবং শাশুড়ি মিতা সেনগুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *