‘২ টুকরো হতে বসা হাত নিয়েই খুললেন দরজা…’, ফ্লাইদুবাইয়ের রোমহর্ষক ককপিট হামলায় বিশ্বজুড়ে কুর্নিশ ভারতীয় বীরকে

‘২ টুকরো হতে বসা হাত নিয়েই খুললেন দরজা…’, ফ্লাইদুবাইয়ের রোমহর্ষক ককপিট হামলায় বিশ্বজুড়ে কুর্নিশ ভারতীয় বীরকে

মাঝআকাশে ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে যখন নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুণছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী, ঠিক তখনই ক্ষতবিক্ষত শরীরে এক নজিরবিহীন অলৌকিক ঘটনা ঘটালেন এক ভারতীয় পাইলট। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই’ (Flydubai FZ1073)-এর ককপিটে ওমানি কো-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলা বানচাল করে যেভাবে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর সবাইকে রক্ষা করলেন, তা শুনে শিউরে উঠছে বিশ্ব।

মাঝআকাশে তাণ্ডব ও ধ্বংসের চক্রান্ত
উড়ানের দুই ঘণ্টার মাথায় আচমকাই উন্মত্তের মতো ধারালো ছুরি নিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সহ-পাইলট। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমানটির নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়ে তা সরাসরি ক্র্যাশ করানোর বা কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল হামলাকারীর। কো-পাইলটের এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন ক্যাপ্টেন স্মিত। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে।

মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে ক্যাপ্টেনের ২ মাস্টারস্ট্রোক
শরীরে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটছে, কেটে দু’টুকরো হতে বসেছে হাত— তবুও একফোঁটা মনোবল হারাননি ক্যাপ্টেন স্মিত। জ্ঞান হারানোর ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি দুটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন:

১. এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলে সঙ্কেত: তিনি দ্রুত সাধারণ জরুরি সঙ্কেত ‘৭৭০০’ এবং হাইজ্যাকিংয়ের সঙ্কেত ‘৭৫০০’ এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলে পাঠাতে সক্ষম হন।
২. ককপিটের অসাধ্য সাধন: চরম ঝুঁকির মধ্যেও কো-পাইলটকে এড়িয়ে ককপিটের ল্যাচ খুলে দরজা আনলক করে দেন। স্পাইসজেটের চেয়ারম্যান অজয় সিং জানান, ল্যাচটি কো-পাইলটের দিকেই থাকে। ফলে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও দরজা খোলাটা ছিল নজিরবিহীন দূরদর্শিতা।

ককপিটে যাত্রীদের মরণপণ প্রতিরোধ
দরজা খুলতেই রক্তাক্ত ক্যাপ্টেন মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। বিপদ বুঝে ককপিটে ঝাঁপিয়ে পড়েন সাহসী যাত্রীরা:

ইয়ানিভ হায়ুন: পেশায় প্লাম্বার এই যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে চেপে ধরেন এবং দূরদর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিমানের নাক ওপরের দিকে তোলার চেষ্টা করেন।

ডক্টর মুসায়েভ শোটা: এই ডেন্টিস্ট ককপিটে ঢুকে হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়ে হামলাকারীকে শক্ত করে বাঁধেন এবং রক্তাক্ত স্মিতের জীবনদায়ী চিকিৎসা শুরু করেন।

পরবর্তীতে ফ্লাইটে যাত্রী হিসেবে থাকা আরও দুই রিলিফ পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটির নিরাপদ অবতরণ ঘটান।

৯/১১-এর মতো বিপর্যয় রক্ষা, বিশ্বজুড়ে কুর্নিশ
ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে ৯/১১-এর মতো ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানোর সাথে তুলনা করেছেন। বিশ্বনেতারা ক্যাপ্টেনের এই অদম্য সাহসকে স্যালুট জানিয়েছেন।

ইজ়রায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ ইতিমধ্যে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর এবং চার সাহসী ইজ়রায়েলি যাত্রীকে দেশের অত্যন্ত সম্মানজনক ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিল হিরোইজ়ম’-এর জন্য মনোনীত করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *