মিড-ডে মিলে আর টান নয়! ৯৯৭ কোটি বরাদ্দ করে স্কুলগুলিকে কড়া বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর

রাজ্যে স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল (PM Poshan) বন্ধ হওয়া নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বড়সড় পদক্ষেপ করল শিক্ষা দফতর। কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার বন্ধ করা যাবে না—স্কুলগুলিকে স্পষ্ট ভাষায় এই বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। একই সঙ্গে পরিষেবা সচল রাখতে সরকারের তরফে মোট ৯৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের হিসাব প্রকাশ করেছেন তিনি।
কোথায় কত টাকা বরাদ্দ? শিক্ষামন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার ‘পিএম পোষণ’ প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অর্থ বরাদ্দের হিসাব দিয়ে তিনি জানান:
- রাঁধুনিদের পারিশ্রমিক: নভেম্বর মাস পর্যন্ত রাঁধুনি ও সহায়কদের পারিশ্রমিক বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছে ৪২৪ কোটি টাকা।
- রান্নার খরচ: সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রান্নার আনুষঙ্গিক খরচের জন্য দেওয়া হয়েছে ৫৭৩ কোটি টাকা।
সব মিলিয়ে দফতর থেকে মোট ৯৯৭ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, এই অর্থ বরাদ্দের ফলে অক্টোবর মাস পর্যন্ত স্কুলে স্কুলে মিড-ডে মিল চালানো নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
পুজোর আগেই বকেয়া মেটানোর আশ্বাস শুধু বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েই থামেননি শিক্ষামন্ত্রী। দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে রাঁধুনিদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছে দফতর। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগেই রাঁধুনিদের সমস্ত বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। ফলে উৎসবের মরসুমে বড় স্বস্তি পেলেন হাজার হাজার রাঁধুনি ও সাহায্যকারী কর্মী।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ? সম্প্রতি গড়িয়ার বোড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠে ধারদেনা বেড়ে যাওয়ায় টানা তিন দিন মিড-ডে মিল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। একই ধরনের খবর সামনে এসেছিল দমদমের একটি স্কুল থেকেও। দুটি ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তড়িঘড়ি অর্থ মঞ্জুর করে রান্না পুনরায় শুরু করা হয়।
পরপর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শিক্ষা দফতরের স্পষ্ট অবস্থান—আর্থিক বা প্রশাসনিক কোনো জটিলতার অজুহাতে পড়ুয়াদের খাবার বন্ধ করা চলবে না। তবে শুধু ঘোষণাই নয়, বরাদ্দের এই টাকা নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিটি স্কুলে পৌঁছচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার।