দুবাইয়ের হাসপাতালে পরিবারের মাঝে ‘সুপারহিরো’ স্মিত, ৯/১১-র মতো বিপর্যয় রোখা ক্যাপ্টেনের বর্তমান অবস্থা কেমন?

দুবাই: ককপিটে রক্তক্ষয়ী হামলা সামলে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে বিউটিফুল ফ্লাইট রক্ষা করে গোটা দুনিয়ায় ‘সুপারহিরো’ তকমা পেয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশ্বনেতারা তাঁর বীরত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ৯/১১-র মতো বড় বিপর্যয় আটকে দিয়ে নিজে মারাত্মক জখম হয়েছিলেন স্মিত। সৌদির প্রাথমিক চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবারই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করা হয়েছে দুবাইয়ের এক হাসপাতালে।
‘কথা বলছেন, হাসছেন স্মিত’ বৃহস্পতিবার দুবাইয়ের হাসপাতালে আহত ক্যাপ্টেনের সঙ্গে দেখা করেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল। স্মিতের পরিবারের সদস্যরাও তাঁর পাশে রয়েছেন। সাক্ষাতের পর রাষ্ট্রদূত জানান, স্মিত এখন অনেকটাই ভালো আছেন। তাঁর কথায়, “স্মিত এখন কথা বলছেন, মৃদু হাসছেন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। আঘাতের কারণে সামান্য অস্বস্তি থাকলেও তিনি চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছেন।”
অবশেষে স্বস্তিতে আতঙ্কিত পরিবার সংবাদমাধ্যমে ভয়াবহ হামলার খবর পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন স্মিতের স্বজনেরা। তবে দুবাইয়ের হাসপাতালে তাঁকে চোখের সামনে দেখে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। মানসিকভাবে ধকল ও ট্রমা কাটিয়ে উঠতে ডাক্তাররা পরিবারকে স্মিতের সঙ্গেই থাকার অনুমতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, আবু ধাবির ভারতীয় দূতাবাস ও দুবাই কনস্যুলেট সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
কী ঘটেছিল ৩০ সেপ্টেম্বরের সেই ককপিটে? ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিভ যাচ্ছিল। মাঝআকাশে হঠাৎই ওমানের নাগরিক কো-পাইলট উন্মত্ত হয়ে মূল ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়।
ক্যাপ্টেন আহত হতেই বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং প্রায় ১৪,০০০ ফুট নিচে নেমে যায়। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থাতেও হার মানেননি ক্যাপ্টেন স্মিত। একের পর এক ছুরির আঘাত সহ্য করেও তিনি অত্যন্ত কৌশলে ককপিটের দরজা খুলে দেন। সেটাই ছিল ঘটনার ‘টার্নিং পয়েন্ট’। দরজা খোলামাত্রই বিমানে থাকা কয়েকজন সাহসী যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। পরে অন্য পাইলটরা বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করান।