‘জ্ঞানেশ কুমার ডাকাত, কারচুপি করে হারিয়েছে’, শুভেন্দু সরকারকে তুলোধোনা ক্ষুব্ধ মমতার!

‘জ্ঞানেশ কুমার ডাকাত, কারচুপি করে হারিয়েছে’, শুভেন্দু সরকারকে তুলোধোনা ক্ষুব্ধ মমতার!

রাজ্যে বহিরাগতদের দিয়ে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের জন্য সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সুপরিকল্পিত কারচুপি এবং ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়ার কারণেই তৃণমূলকে হারতে হয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটের আগের এক বছর ধরে বেআইনি সফটওয়্যার ব্যবহার করে নির্বাচনে জালিয়াতি করেছেন জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর সহযোগীরা। ক্ষুব্ধ মমতা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। তৃণমূল নেত্রী তথ্য দিয়ে বলেন, একুশের নির্বাচনে যে কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূল এক লক্ষের বেশি ভোটে জিতেছিল, স্পেশাল ইনকোয়ারি বা SIR চলাকালীন সেই কেন্দ্রগুলি থেকেই প্রায় ছয় লক্ষ ভোটারের নাম গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইন মেনেই হয়েছে।

বর্তমান রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও এদিন চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, শাসক দলের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে রাজ্য পুলিশ। পাশাপাশি তাঁর চাঞ্চল্যকর দাবি, শাসকদলের মদতপুষ্ট কিছু ‘বহিরাগত’ বাংলায় বর্তমান অশান্তি উস্কে দিচ্ছে। প্রশাসনের একাংশ শাসকদলের কথা শুনলেও তার একটা নির্দিষ্ট সীমা থাকা উচিত বলে মনে করিয়ে দেন তিনি।

শুধু নির্বাচন বা প্রশাসন নয়, বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমূলক নীতি নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে শুরু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’, ‘ঐক্যশ্রী’ বা ‘যুব’-র মতো একাধিক জনপ্রিয় প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষকে দিচ্ছে না শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই প্রকল্পগুলি হয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, নয়তো এর সুবিধা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকেও ভোট লুঠের তত্ত্ব তুলে ধরেছিলেন মমতা। সেখানে তিনি মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়েও কারচুপির অভিযোগে সরব হয়েছিলেন। শুক্রবার তাঁর এই নতুন আক্রমণ সেই অভিযোগেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *