‘আঠারো বছর বয়স’ ও ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ ফেরানোর দাবি! কী বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার?

স্কুল জীবনের পাঠ্যসূচি থেকে বাদ পড়া কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত সৃষ্টিগুলি পুনরায় সিলেবাসে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠল। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষে এই দাবি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের রাজ্য কমিটি। এই আবহে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
একসময় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতাটি। পাশাপাশি, উচ্চ মাধ্যমিক স্তর থেকেও বাদ পড়ে গিয়েছে তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুচর্চিত কবিতা ‘আঠারো বছর বয়স’। নতুন সরকারের কাছে এই সৃষ্টিগুলি ফের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করার জোরদার দাবি জানানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “দেখুন আমি একটা কথাই বলব শ্রেণী শত্রু বলে কিছু নেই। এই কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যারাই আছে তাঁরা সবাই ভারতীয় নাগরিক। রাজনৈতিকভাবে কাউকে শত্রু দেখে দেওয়া, তাঁদের প্রতি আক্রমণাত্মক মনোভাব, এটা গণতন্ত্রের পক্ষে সুবিধাজনক নয়।” সমালোচকদের নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “এদের কাছ থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না। এরা ভারতবর্ষে বিশ্বাস করে না। এরা বাড়িতেও ঠিকঠাক শিক্ষা-দীক্ষা পায়নি।”
সিলেবাস পরিবর্তন ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন সিলেবাস কমিটি এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁদের কারও সৃষ্টিই জোর করে বাদ দেওয়ার মতো সংকীর্ণ মানসিকতা নেই। সুকান্ত মজুমদারের কথায়, “আমাদের নতুন সিলেবাস কমিটি রয়েছে। আমাদের কারুর কবিতা বাদ দিতে হবে এরকম মানসিকতা নেই। আমাদের সিলেবাস কমিটি ঠিক করবে কোন কবিতা থাকবে… আমাদের একে বাদ দিয়ে দিতে হবে, ওদেরকে বাদ দিয়ে দিতে হবে, এইরকমটা চলবে না।”
ইতিহাস চর্চা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, অতীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও ব্যক্তিত্বের অবদানকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখন সবটা বুঝতে পেরেছেন এবং সঠিক ইতিহাস জানতে পারছেন।
এদিন শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চা বিক্রি করা নিয়ে চলা রাজনৈতিক আক্রমণ প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার মন্তব্য করেন, যারা বয়স্ক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন, তারা সাধারণ ভদ্রতাটুকুও ভুলে গেছেন। তবে রাজনৈতিক আন্দোলন ও মতপার্থক্য থাকতেই পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।