হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য! নয়টি তোপধ্বনিতে বিষ্ণুপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর শুভারম্ভ

সোমবার বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক মল্ল রাজবাড়িতে নয়টি তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো শতাব্দী প্রাচীন দুর্গাপুজোর। ১ হাজার ৩০ বছরে পদার্পণ করা এই পুজো উপলক্ষে এ দিন সকালে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পটে আঁকা দেবী বড় ঠাকুরাণীর আগমন ঘটে। দেবীর আগমনের বার্তা ভক্তদের দ্বারে পৌঁছে দিতে তিন ধাপে মোট ৯টি তোপ দাগা হয়, যা দেখতে রাজবাড়ি চত্বরে উৎসাহীদের ভিড় জমে। ৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে রাজা জগৎ মল্লের মাধ্যমে স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু হওয়া এই পুজো আজও তার নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রাচীন নিয়মকানুন অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
রাজপরিবারের এই পুজোর মূল আকর্ষণ পটে আঁকা বড়, মেজো ও ছোট ঠাকুরাণীর আরাধনা, যা মল্ল রাজাদের সময়কার হাতে লেখা পুঁথি ও নিজস্ব ‘বলি নারায়নী’ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। মৃণ্ময়ী দেবীর পাশাপাশি নবমীর রাতে খচ্চরবাহিনী পুজো, অষ্টমীর সন্ধিপুজোয় রাজঅঞ্জলি এবং দশমীতে নীলকণ্ঠ পাখি ও চ্যাং মাছ ছাড়ার মতো অনন্য সব প্রথা এখানে পালিত হয়। শতাব্দী প্রাচীন এই আচার ও রাজকীয় জাঁকজমক দেখতে প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে বিষ্ণুপুরে।