নির্বাচন কমিশনের দৌড়গোড়ায় তোলপাড় রাজনীতি, পথ আটকে বসল পুলিশ, বিস্ফোরক ভিডিওবার্তায় তোপ রাহুলের!

ভোটার তালিকা এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের বিক্ষোভ দিল্লিতে তুঙ্গে উঠেছে। সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন দফতরের দিকে মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা ও ইন্ডিয়া (INDI) জোটের তিন শতাধিক লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ। নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে আপত্তি ও স্মারকলিপি জমা দেওয়াই ছিল তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু আকাশবাণী ভবনের কাছে বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা জারি করে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের পথ আটকে দেয়। বাধা পেয়ে বিরোধী নেতারা রাস্তার ওপরই ধর্না-বিক্ষোভে বসে পড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক বিস্ফোরক ভিডিও বার্তা জারি করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে দেখা করতে কেন ভয় পাচ্ছে কমিশন? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুব কংগ্রেস, এনএসইউআই এবং সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস ও ভি শিবদাসনসহ একাধিক নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়।
দিল্লির উত্তাপ ছড়ায় ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতেও, যেখানে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে যুব কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান ফটকে পৌঁছে সাইনবোর্ডে কালি লেপে দেন এবং কমিশনের কার্যালয়টি ‘বিজেপি অফিসের মতো কাজ করছে’ বলে অভিযোগ তোলেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুবোধ কান্ত সহায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে আখ্যা দেন। একই সুর শোনা যায় কংগ্রেস নেতা পবন খেরার কণ্ঠেও; তিনি কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তবে দমনেও দমতে নারাজ বিরোধীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যেই দিল্লি ও রাঁচির এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যে আগামী ৮ অক্টোবর রাজপথে ফের এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া ব্লক।