চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ ডি কর্মীদের ভাগ্য বদলের বড় সুযোগ, নবান্নের বিশেষ পরীক্ষায় মিলবে পদোন্নতি

রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নির্দিষ্ট পদ ও সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ছাড়া কাজ করা বিপুল সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ ডি কর্মীদের দক্ষতাকে এবার প্রশাসনিক কাজে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, বিশেষ করে সেচ ও জলসম্পদ দপ্তরে কর্মরত প্রায় ৩২০০ জন কর্মীর কাজের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে এবং তাঁদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়নে এক বিশেষ স্ক্রিনিং টেস্ট ও ভাইভা নেওয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা উপযুক্ত প্রার্থীরা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন, যেখানে ৭৫ শতাংশ গুরুত্ব থাকবে লিখিত পরীক্ষায় এবং ২৫ শতাংশ মৌখিক পরীক্ষায়। চূড়ান্ত মেধা তালিকার ভিত্তিতে সফল প্রার্থীদের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট, লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক এবং কম্পিউটার অপারেটরের মতো ঘাটতি থাকা গ্রুপ সি পদগুলিতে পদোন্নতি ও নিয়োগ করা হবে।
অন্যদিকে, যাঁরা এই মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, তাঁদেরও ছাঁটাই না করে যোগ্যতা অনুযায়ী বিকল্প সম্মানজনক কাজে নিযুক্ত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। অনুত্তীর্ণ কর্মীদের দক্ষতা ভেদে পিওন, বরকন্দাজ, রেকর্ড কিপার বা পাম্প অপারেটরের মতো উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে শুরু করে চৌকিদার, নাইট গার্ড বা খালাসি পদে তাঁদের যাতায়াতযোগ্য দূরত্বের অফিসে পদায়ন করা হতে পারে, এবং ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টের সুবিধাও মিলবে। জেলা সদর ও কলকাতার কার্যালয়গুলিতে অতিরিক্ত কর্মীর সঠিক বন্টন নিশ্চিত করে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানোই এই ভাবনার মূল উদ্দেশ্য। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ কর্মীদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনিক পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করে তুলবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।