‘জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে দেশবাসীর বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নেমেছেন মোদী-শাহ!’— সাংবাদিক বৈঠকে তোপ দীপকে-নেহাদের

নিজের দেশের জনগণের বিরুদ্ধেই যেন একপ্রকার ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ— এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন ‘সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ (CJP)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করতেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই বেনজির পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবারের এই বিশেষ যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে অভিজিৎ দীপকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন AISA নেত্রী নেহা বোরা এবং বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তিনজনেই একযোগে কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
🚨 “একজনের জন্য অচল রাজধানী”
অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির তরুণ ও ছাত্র সংগঠনগুলি যখন রাজপথে নেমেছিল, তখন তাঁদের ওপর পুলিশি বর্বরতা চালানো হয়। তিনি বলেন, “ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা থেকে শুরু করে ঐশী ঘোষ— সবাইকে টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো দেশের শীর্ষ বিরোধী নেতাদেরও আটক করা হয়েছিল।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “একটি মাত্র মানুষকে রক্ষা করার জন্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতখানি বাড়ানো হয়েছিল? দিল্লিজুড়ে মেট্রো পরিষেবা, রেল পরিষেবা এমনকী ইন্টারনেট পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কেবল জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর জন্য!”
🔒 তিহাড়ে প্রতিবাদীরা
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে জাতীয় পতাকা হাতে যন্তর-মন্তরের পাঁচিল টপকে প্রতিবাদ জানান CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্ক শিন্ডে এবং সৌরভ দাস। তাঁদের গ্রেফতার করে ইতিমধ্যেই আশুতোষ ও সৌরভকে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রতিবাদীদের ওপর অন্যায় অত্যাচার বন্ধের দাবি জানানোর পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্র বিরোধী’ বলে আখ্যা দেন নেহা বোরা ও প্রকাশ রাজরা।